টংগী সরকারী কলেজে অনুষ্ঠিত হল বসন্ত বরণ ২০২০


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৫:২৭:০২ অপরাহ্ন

টঙ্গী কলেজ প্রতিনিধিঃ টংগী সরকারী কলেজে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা হয় স্টল যাতে ছিল বসন্তের নানান উপাদান সামগ্রী।রবিবার সকাল ৮ টায় মনোরম পরিবেশের একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে বসন্তবরণ অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ড. রফিকুল ইসলাম এ শোভযাত্রায় উপস্থিত থাকেন এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সেখানে অংশগ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মাইকসহ সাউণ্ড বক্সের ব্যবস্থা করা হয়। এই নব বসন্তের প্রতীক হিসেবে মেয়েরা বাসন্তী  শাড়ি পরে আর ছেলেরা হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবী পরে বসন্তকে স্বাগত জানায়।

সকাল ১০ টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে ছাত্র-ছাত্রী সবাই সমবেতভাবে বসন্তের ঐতিহ্যবাহী গান ও কবিতার মধ্যদিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উৎযাপন বসন্তবরণ নবসূচনা করে। গান ও কবিতার মেলবন্ধনে সবার মনেপ্রাণে বসন্তের উদ্দাম আনন্দ জেগে উঠে। মাননীয় অধ্যক্ষ ড. রফিকুল ইসলাম এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের প্রবন্ধ পড়েন বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যক্ষ ফারজানা পারভীন এবং এই প্রাবন্ধের উপর আলোচনা করেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা মণ্ডলীগণ। বিপুলপরিমাণ ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে কলেজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ প্রানবন্ত হয় উঠে তখন।
সকাল সাড়ে ১০ টায় শুরু হয় নববসন্তের কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে এই কলেজের উল্লেখযোগ্য ছাত্রছাত্রী তাদের স্বরচিত ছড়া কবিতা ও নানান ধরনের প্রবন্ধ পাঠ করেন। আবার অনেকেই দেশের বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকের কবিতা ও সাহিত্য পাঠ করেন। কবিতা আবৃত্তির পর শুরু হয় একক নৃত্য তারপর শুরু করেন দলীয় নৃত্য। নৃত্যের তালে তালে উপস্থিত শিক্ষক  শিক্ষিকামণ্ডলী ও ছাত্রছাত্রী নব বসন্তের অামেজে মেতে উঠেন।
পরের দিন সোমবারে যথারীতি গান কবিতা আবৃত্তির পর শুরু হয় নাট্যঅভিনয়। এতে অংশগ্রহণ করেন কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী। অন্যদিকে বিভিন্ন বিভাগের স্টলে পড়ে কেনাকাটার ধুম। ছেলে মেয়েরা জোরায় জোরায় এসে তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনছেন। ছাড়িদিকে রং আলপনা হৈচৈ বিনোদনের তুঙ্গে তুলে রাখে অডিটোরিয়ামসহ সারা কলেজ প্রাঙ্গণ। যেন বসন্তের হওয়ায় নতুন করে জীবনকে সাজিয়ে উপভোগ করছে এইদিন।
তাই  বসন্ত নিয়ে দুটি লাইন লিখতে ইচ্ছে হয়,
      নব বসন্তের হাওয়ায় আজি জেগেছে তরুন তরুনী
      যেন ফুলের গন্ধে মন আনন্দে গাইছে গান ষোড়শী রমণী।
      দেখো কোকিল ডাকে শিমুল ডালে পলাশ ফুটে বনে
      লক্ষ্মীপেঁচা রাতে কাঁদে পরা ভিটে গাছের পানে।
এমন পরিবেশেই মুখরিত কলেজ ভূমি। ফলে বসন্তবরণ অনুষ্ঠানটি আরো বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠে। তৃতীয় দিন বিকাল ৩ টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়,  যথারীতি অন্যান্য সাংস্কৃতিক পর্বের শেষে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ড.রফিকুল ইসলাম অন্যান্য বিভাগের বিভাগীয় প্রাধান এবং ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুর, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও পুরস্কার মনোনীত সকল ছাত্রছাত্রী এবং অতিথিবৃন্দ।
এবারের বসন্তবরণ অনুষ্ঠানমালা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়। এই বসন্তবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরে বসন্তের সূচনা করে। তাছাড়া বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে কলেজে যে বসন্তমেলার আয়োজন করা হয়, সে মেলায় সমবেত ছাত্রছাত্রীর ঐক্য ও চেতনা বাঙ্গালির জাতিমনে যে প্রেরণায় উদ্ধুত করেছে তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হিসেবে থাকবে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী নববসন্ত উপলক্ষে কলেজে যে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছিলো, তা ছিলো একদম সফল এবং স্বার্থক। এ ধরনের বসন্তবরণ অনুষ্ঠান প্রতিবছর হলে বাংলার সংস্কৃতি আরো হাজার বছর ঠিকে থাকবে।