জ্ঞান অর্জন যেভাবে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের কারণ


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ০১:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। মানুষের এ শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ হলো জ্ঞান অর্জন করা। যেভাবে আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে জ্ঞান দানের মাধ্যমে ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার কুদরতে ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে হজরত আদম আলাইহিস সালামের এ শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছিলেন।

জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের জীবনকে সাজাতে পারে। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত জীবন গড়তে পারে। দুনিয়া ও পরকালের শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও সফলতা লাভে জ্ঞান অর্জন ও এর প্রয়োগের বিকল্প নেই। হাদিসে পাকে জ্ঞান অর্জনের ফজিলত ও মর্যাদা বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম।

> রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া কোনো মানুষ দেখতে চায়, সে যেন আল্লাহ তাআলা দ্বীনের ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তিদের দিকে তাকায়।’

> তিনি শপথ করে বলেছেন, কোনো আলেমের দরজায় যখন কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারী জ্ঞানার্জনের জন্য যায়, তখন তার প্রত্যেক কদমের জন্য তার আমলনামায় এক বছরের ইবাদতের সাওয়াব লেখা হয়। জান্নাতে তার জন্য একটি শহর তৈরি করা হয়। সে যখন জমিনে বিচরণ করে, জমিন তার জন্যে আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তার উপর সকাল-সন্ধ্যা হয় এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। ফেরেশতারা সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভকারী।

> জ্ঞান মহান আল্লাহর দেয়া সেরা রহমত। কেউ চাইলেই জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়, যদি না মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি অনুগ্রহ না করেন। ইমাম রাজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ সম্পর্কে ৫টি উপমা তুলে ধরেছেন। তাহলো-
– বৃষ্টি যেমন আসমান থেকে নাজিল হয়, তেমনি ইলমও আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়।
– বৃষ্টিপাতের কারণে যেভাবে জমিন তৈরি হয়, ফলফলাদি উৎপাদনের জন্য, তেমনি ইলম অর্জনের কারণে মানুষের মনের জমিনে মানবিক গুণাবলী অর্জন সম্ভব হয়।
– বৃষ্টিপাত ব্যতিত যেমন জমিন থেকে ফসলাদি উৎপন্ন হয় না, ঠিক ইলম ব্যতিতও মানুষ আল্লাহ তাআলা ইবাদাত-বন্দেগি করতে সক্ষম হয় না।
– আকাশে বজ্র ধ্বনি বা বিদ্যুৎ চমকালে যেভাবে বৃষ্টিপাত হয়, তেমনিভাবে জান্নাতের আশা এবং জাহান্নামের শাস্তির ভয়ের ফলে ইলম অর্জন হয়।
– বৃষ্টি যেমন অনেক সময় উপকারী হয় আবার অপকারী হয়, ঠিক ইলম অনুযায়ী যদি আমল করা হয় তবে তা উপকারী হয়। পক্ষান্তরে ইলম অনুযায়ী আমল না করলে তবে তা অপকারী হয়। (তাফসিরে কবির)

মনে রাখা জরুরি
ইলম বা জ্ঞান না থাকলে আল্লাহকে ভয় করার গুণ থেকেও বঞ্চিত হয় মানুষ। আবার এ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহ তাআলঅকে ভয় করার তাওফিক লাভ করে। যার অন্তরে জ্ঞানের আলো রয়েছে, তার অন্তরেই ফয়দা হয় আল্লাহর ভয় এবং সে নিজে যেমন আলোর পথ খুঁজে পায় তেমনি জাতির জন্য হয়ে ওঠে দ্বীনের সেরা দাঈ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি উপকারি ও কল্যাণময় দ্বীনে জ্ঞান লাভের তাওফিক কামনা করা। দ্বীনের পথে অটল ও অবিচল থাকা। ইলম অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করা। আর সঠিক জ্ঞান লাভে আল্লাহর কাছে এ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া-
رَبِّ زِدْنِى عِلْمَا
রাব্বি যিদনি ইলমা অর্থাৎ ‘হে আমার প্রভু! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দ্বীনের উপকারে, দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে যথাযথভাবে জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন। অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমলি জিন্দেগি যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।