জানা গেল আদার অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণ!


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২০ - ১২:১৩:০৮ অপরাহ্ন

বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আদার আমদানি মূল্য গড়ে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। ‘কারসাজির কারণে’ পাইকারিতে কেজি প্রতি আদার দাম হয়েছে ২৫০ টাকা। আর খুচরায় তা বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা। চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের কিছু আমদানিকারক, ব্রোকার ও কমিশন এজেন্টরাই কৌশলে দাম বাড়িয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের ভাষ্য।

তবে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় আদার দাম বেড়েছে। আদা আমদানি স্বাভাবিক হলে দাম কমবে। বন্দরের হিসেবেও চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আদার আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আদা এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন। গত বছরের প্রথম চার মাসে আদার আমদানি ছিল ৩০ হাজার টন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে থাকা সরকারি হিসেবে ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৩২ জন আমদানিকারক আদা আমদানি করেছেন ৩ হাজার ১৪৪ টনের মতো। চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে ৪৭৫ টন আদা। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে খাতুনগঞ্জে দেশি আদা ৬০-৭০ টাকা, মিয়ানমারের আদা ৭০-৮০ টাকা এবং চীনের আদা ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এরপর করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউন বাস্তবায়নের পর ভারত থেকে আদা আমদানি বন্ধ হয়ে যায় বলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান। মিয়ানমার থেকেও আদা আমদানি কমে শূন্যের কোঠায় নামে। দেশীয় আদার সরবরাহও বাজারে কম। তাই পুরো বাজারেই এখন আমদানি করা চীনা আদার আধিপত্য। বাজার তদারকিতে থাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে চীনা আদার দাম পাইকারিতে ছিল কেজি প্রতি ১২০-১৩০ টাকা।

“করোনাভাইরাস রোধে আদা চায়ের উপকারিতা নিয়ে প্রচার থাকায় আদার চাহিদা বেড়ে যায়। এরপর প্রতিদিন আদার দাম বাড়িয়ে এখন পাইকারিতে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।” খুচরায় আদার দাম কেজিতে ৩০০ টাকা হওয়ার পর শুক্রবার অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসনের অভিযান দল। খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, পাহাড়তলির বিভিন্ন আড়ত ও মোকামের হিসাবের খাতা পর্যালোচনা তারা দেখতে পান, ১৫ এপ্রিলের পর থেকে আদার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ১২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় উঠেছে।

পাইকার ও আড়তদারদের সংগঠন খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বলেন, “সরবরাহ কম থাকায় আমদানিকারকরা আদার দাম বাড়িয়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। “শুরুতে ১৫০, তার পরদিন ১৬০, এর পরদিন ১৮০ এবং তার পরদিন ২০০ টাকা কেজিতে আমদানিকারকরা আদা বিক্রি করেছেন। খুচরা ক্রেতারা কিনতে থাকায় আড়তদার আর পাইকাররা সেই দামেই আদা কিনে বিক্রি করেছে।”

 

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর