Avatar এরশাদ হোসেন বিজয়
Reporter


“জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন”






লেখকঃ কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক-পিয়ারা বেগম

ভারতীয় চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের “একদিন প্রতিদিন” ছবির একটা ডায়লগ ছিল, “মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়া যে কত কষ্টের”। নুসরাতের শ্লীলতাহানী থেকে শুরু করে তার নির্মম মৃত্যু , জানাজাসহ দাফন প্রক্রিয়া পর্যন্ত কেবলই একটা অপ্রতিরোধ্য চাপা কান্না- মিশ্রিত আর্তনাদ আর ভেতরের শোককাতর মনের রক্তক্ষরিত ক্ষতাক্তের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়া শুধুই কী কষ্টের? “মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়াই যেন আমাদের আজন্ম পাপ” এই কথাটি শুধু জানতাম, বিশ্বাস করি নি। আজ নূসরাতের মৃত্যু আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে “মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়াটাই যেন আমাদের আজন্ম পাপ।”

নুসরাতের শ্লীলতাহানীর জন্য অভিযুক্ত আসামী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের মামলা প্রত্যাহারের জন্য কৌশলে যারা ছাদে যেতে তাকে বাধ্য করে আগুনে পুড়িয়ে, দগ্ধ করে, যন্ত্রণা দিয়ে তাকে হত্যা করতে সহায়তা করছিল তারাও ছিল মেয়ে! আবার অভিযুক্ত আসামী অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার মুক্তির দাবীতে মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে বোরকা পরা ছাত্রীরাও ছিল। যদি ছাত্রীদের জোর করে যেতে বাধ্য করা না হয় তবে এক্ষেত্রে ফরাসী দার্শনিক সিমন দ্য বোভায়ার -এর উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন,” পৃথিবীর যাবতীয় বিষয় নারীও বিচার করে পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে। নিজের চোখে পৃথিবীকে দেখতে তারা অভ্যস্ত হতে পারছে না।” হায় রে নারী মন! এখনো সেই মাতৃবাৎসল্য,পতিপরায়ণতা আবেগী, বিশ্বজনীন মমতায় সিক্ত একটা দরদীমনকে আর কতদিন বিশ্বাসের বলয়ে আবদ্ধ করে রাখবে?
তাই যদি হয়, তাহলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে? হায় রে সমাজ! সন্তানেরা মায়ের দুধপানে শরীর গঠন করে, একসময় মায়ের হাতের রান্না করা খাবার ছাড়া তাদের তৃপ্তি মেটেনা সেই মায়েদের এত্ত কষ্ট কেন? সেই মায়েরজাতকে এত্ত অপমান,লাঞ্ছিত হয়ে মরতে হচ্ছে কেন? ভারাক্রান্ত মনে একবুক জ্বালা বুকে লালন করে হাজারো লাঞ্ছিত, নিপীড়িত মা-বোনদের এমন নির্মম মৃত্যুর ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে প্রশ্ন রাখছি জাতির বিবেকের কাছে? আর কত্ত মা-বোনদের এমন নির্মম মৃত্যুর পক্ষে এমন মিছিল দেখতে হবে?

 

/এ.এইচ.বি