“জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে” যে সকল বিষয় গুলো লক্ষ রাখা উচিত


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ - ১২:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় বইছে সিটি নির্বাচনের হাওয়া। বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে একটি উৎসব। এ দেশে দল বেঁধে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার একটি রীতি দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে। নির্বাচন এলে দেশে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। তাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী- আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সম্পূর্ণ ভোটই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জনপ্রতিনিধিদের কথা বলতে গেলে, আজকাল ভালো প্রার্থী পাওয়া দুঃষ্কর। অথচ জনগণ চায় সৎ, শিক্ষিত, চরিত্রবান, আদর্শবাদী ও সমাজসেবার মানসিকতাসম্পন্ন যোগ্য মানুষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হোক। বাস্তবে যারা সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে থাকবে, কেবল তারাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকারী। সচেতন মহলের অভিমত এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে সক্ষম ব্যক্তিকেই ভোট দেয়া আমাদের কর্তব্য । তবে যারা ঘুষ খায়, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পায়ে ধরে, ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে, তাদেরকে বর্জন করা উচিত।

শিক্ষানুরাগীদের মতে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের শিক্ষিত হওয়া দরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে নির্বাচনে পেশিশক্তি, অর্থের প্রভাব ইত্যাদি কারণে অশিক্ষিত জনপ্রতিনিধিরা এক একটি নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব নেন। এদের অনেকেই অজ্ঞতার কারণে কোথায় প্রকল্প বা কোথা থেকে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আনতে হয়, তা ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। ফলে ওই এলাকা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়।

অন্যদিকে অনেক জনপ্রতিনিধি সেবার পরিবর্তে ব্যবসার জন্য রাজনীতি ও নির্বাচন করে। নির্বাচিত হয়ে সে জনসেবার কথা ভাবেই না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষিত হওয়া আবশ্যক। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের অনেক শর্ত থাকলেও প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো শর্ত আছে কিনা, তা আমার জানা নেই। একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করার জন্য, দেশকে উন্নত থেকে উন্নততর করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বিভিন্ন এলাকাবাসীর মতে, আমাদের দেশে দিন দিন অনেক কিছুরই সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। একইভাবে বদলে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধির সংজ্ঞাও। আগে জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত ও সৎ মানুষরা জনপ্রতিনিধি হতেন। সাধ্যমতো তারা মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করতেন। এখন অবৈধ অর্থের মালিক, সন্ত্রাসী বা পেশিশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তিরাই অধিক হারে জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন। মান-সম্মানের ভয় আছে, এমন কোনো ব্যক্তি এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করারই সাহস পান না। আজকাল জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে যাচ্ছে এবং এর ফল যা হওয়ার সেটাই হচ্ছে।

আমাদের মতে, সব দলের উচিত! প্রার্থী বাছাইকালে তাদের সততা, দক্ষতা ও জনগণকে মূল্যায়নের সক্ষমতা বিবেচনায় আনা। সৎ ও আদর্শবান রাজনৈতিক নেতাকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হলে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে, যার দরজা শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও খোলা থাকবে; যিনি রাজনৈতিক সহাবস্থানে বিশ্বাসী হবেন। সবার কথা ভাববেন। একইসঙ্গে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হবেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে- ন্যায়পরায়ণ, বিবেকবান, আদর্শবান, নীতিনিষ্ঠ, সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। সর্বস্তরের মানুষের এমনটাই আশা।