উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


জননীর গুরুত্ব ও মর্যাদা।। মিনহা আত্তার






‘মা’ কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভূবনে নাই” আসলেই মা’ কথাটি অতি ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু এর পরিধি বিশাল। জন্মের পর থেকে মধুর এই শব্দটা শুধু মমতা –ভালবাসার নয়,ক্ষমতা ও অধিকারের ও যেন সর্বোচ্চ আধার। মায়ের দয়া অনুগ্রহ ছাড়া কোন সন্তান ই বেঁচে থাকাতে পারে না। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ও শান্তির জায়গা হলো মায়ের কোল।নিরাপত্তা আর মমতায় গড়া সেই কোল।পরম শান্তির পরশে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে চায় সবার মন। জন্মের পর থেকে বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে মাকে ঘিরে জমা হয় ভালবাসা আর কত অভিমান। তাই মা-কে কোন অবস্থাতেই কোন প্রকার কষ্ট দেয়া যাবে না।মা-এর সাথে কেন পারাপ আচরণ করা যাবে না এ প্রঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন“ তোমর প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কাহার ও ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্বশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ““উফ”” বলিও না এবং তাদের কে ধমক দিও না,তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল”।(সূরা বনী ইসরাঈল-২৩) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীণ তন্যত্র ইরশাদ করেন,“ আর আমি মানুষকে তার পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরে হয়। আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ( সূরা-লোকমান-১৪)

দুনিয়াতে মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের চেয়ে মধুর সম্পর্ক আর নেই। নদী প্রবাহ যেমন কোন দিন থেমে থাকে না,মায়ের ভালবাসা ও সেইরকম ই যার কোন সীমারেখা নেই। সন্তান ই মায়ের কাছে পৃথিবীর সব। সন্তানকে নিয়েই রচিত হয় মায়ের ¯েœহ,মমতা ও ভালবাসার এক নতুন পৃথিবী। নিজের জীবনের সব আশা-আকাঙ্খাকে তুচ্ছ মনে করে সন্তানদের সকল চাওয়া পাওয়া পূর্ণ করে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হয়।সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে তার বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত দায়িত্ব টি পরম যতœ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন মা। যে মা সন্তানকে দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেন,ভূমিষ্ট হওয়ার পর অপরিসীম মায়া-মমতায় পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন। সেই সন্তান ই যখন কোন কিছুতেই সেই মায়ের অবদানের পূর্ণ ঋণ পরিশোধ কতরতে পারে না। মায়ের সাথে কোন তুলনা হয় না। শ্রদ্ধা, সম্মান,ও ভালআচরণ দিয়ে মায়ের অবদানের প্রতিদান দিতে হবে। এ ব্যাপারে রাসুল (সঃ) বলেন,মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত।( মাতৃচরণে জান্নাত) –কানযুলউম্মাল) প্রতিটি মানুষের জীবনে মায়ের স্থান সবার উপরে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানানোর জন্য বিশেষ কোন দিনের প্রয়োজন নেই। তার পর ও সব মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর বিশ্ব ‘মা’ দিবস পালন করা হয়।সঙ্গে উপহার হিসেবে চিন্হিত করা হয়েছে সাদা কার্ণেশন ফুল। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার কে “মা’ দিবস হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে । তখন থেকে এই দিনে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে “মা-দিবস।তাদের এ দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মায়ের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।মূলত মায়ের অধিকার হচ্ছে সবার উপরে। তাই রাসূলে কারীম (সাঃ) বলেছেন,নারীর প্রতি সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে স্বামীর আর পরুষের উপর সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে তার মায়ের(কানযুল উম্মাল)

শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামে পিতা-মাতার সাথে সব্দ্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে“ আমি মানুষকে তাদের পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জন্য বল প্রয়োগ করে যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই,তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন।(সূরা আনকাবুত:আয়াত-০৮)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করেছিল,আমার উপর কার অধিকার সবচেয়ে বেশি?তখন রাসূল (সাঃ) বললেন,তোমার মায়ের। তারপর কার? উত্তরে রাসূল(সাঃ) বললেন,তোমার মায়ের।লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল তারপর কার? উত্তরে রাসূল(সাঃ) বললেন,তোমার মায়ের।চুতুর্থবার লোকটি জিজ্ঞেস করলে রাসূল (সাঃ) বললেন,তোমার পিতার(বুখারী ও মুসলিম শরীফ) উক্ত হাদীসে মাতার প্রতি তিনবার সদাচরণের কথা বলা হয়েছে এবং চতুর্থবার পিতার কথা উল্লেখ রয়েছে,মুহাদ্দিসগণ এর বিভিন্ন কারণ বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো,সন্তানের জন্য মাতার এমন তিনটি কষ্ট ভোগ করেন যাতে একমাত্র অংশিদারিত্ব হলো মায়ের। এখানে পিতার কোন দখল নেই। সেগুলো হচ্ছে-১.সন্তান গর্ভেধারণ ২.সন্তান প্রসব ৩.দুগ্ধ পান করানো। এই তিনটি কষ্টের স্বীকৃতিস্বরুপ মায়ের প্রতি তিনবার সদাচরণের কথা বলা হয়েছে।জাহিলি যুগে নারীরা ছিল অধিকারের ক্ষেত্রে পশ্চাদপদ। ইসলামে নারীর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে মায়ের সঙ্গে অধিক সদাচরণের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। জান্নাত লাভের আশা রয়েছে। দুনিয়াতে ভালো কাজ করে অধিক সওয়াবের আশায় একব্যক্তি নবীজী (সাঃ) এর কাছে এসে বলল,আমি আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশায় আপনার হাতে হিজরত ও জিহাদের ব্যাপারে শপথ করছি। নবীজী (সাঃ) বললেন,তোমার পিতা-মাতার কোন একজন জীবিত আছে কি? লোকটি বলল হ্যাঁ।বরং ্ভয়েই। তিনি বললেন,তুমি কি আল্লাহর কাছে সওয়াব আশা কর? লোকটি বলল হ্যাঁ। তিনি বললেন তাহলে তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবাহার করো। (বুখারী-মুসলিম)

তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন, তিন জনের দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া,মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া। (তিরমিযি)
সাম্প্রতিক পৃথিবীতে সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। চাকরী বা কর্মব্যস্ততার মাঝে মা কার ও কাছে থাকেন,কার ও থাকেন দূরে,কার ও আবার মা বেঁচে নেই। মা যেখানেই থাকুক না কেন,মা আছেন সবার হৃদয়ে সবসময়।আবুদারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি,পিতা-মাতা জান্নাতের দরজা। যদিচাও দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো।নতুবা তা সংরক্ষণ করতে পার।(তিরমিযি)
নবী করীম (সাঃ) বলেছেন,সর্বোত্তম কাজ হলো পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে সম্পর্ক রাখা।(সহীহ বুখারী ও মসুলিম শরীফ)
পিতা-মাতাকে কষ্ট দিয়ে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে কোনদিন কেউ ভাল থাকতে পারে না।পিতা-মাতার বদদুয়ায় সন্তানের ইহকাল ও পরকালের সব ধ্বংস হয়ে যায়। এব্যাপারে নবী কারীম (সাঃ) বললেন,ধ্বংস হো,ধ্বংস হোক পুত্ররা ধ্বংস হোক,সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! কার কথা বলছেন? তিনি বললেন যে তার পিতা-মাতা উভয়কে বা কোন একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েছে,অথচ সে তাদের খিদমত করে জান্নাতে যেতে পারেনি। (সহীহ মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন,আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ কোনগুলো তা বলব না?
সাহাবাগণ বললেন,অবশ্যই ইয়া রাসূল্লাহ। তিনি বললেন,আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।বর্ণনাকারী বলেন,এতটুকু বলে নবী করীম (সাঃ) বসে পড়লেন।(তিরমিযি শরীফ)।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,অন্যতম কবীরা গুনাহ হলো কোন ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে গালমন্দ করা।সাহাবাগণ বললেন,পিতা-মাতাকে ও কি কেউ গালমন্দ করে? উত্তরে নবীজী (সাঃ) বললেন,হ্যাঁ।কেউ কারো পিতা-মাতাকে গালি দিলে সে ও তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়। এভাবে অন্যের পিতা-মাতাকে গালমন্দ করলে প্রকারান্তরে নিজের পিতা-মাতাকেই গালমন্দ করা হয়।( তিরমিযি শরীফ) অবশেষে বলতে চাই মা সদ্যজাত শিশুর প্রথম ভালোবাসা।সভ্যতার শুরুথেকেই মানুষকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেখা যায়। পৃথিবীর সব সন্তানের হৃদয় পূর্ণথাক মাতৃভক্তিতে। কারো কোন আচরণ যেন মায়ের কান্নার কারণ এবং বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন মায়ের ঠিকানা না হয়।কারণ এটা সন্তানের জন্য একটি অভিশাপ। সব সন্তানের ই এটা মনে রাখা উচিত যে আমরা জন্মেই দেখি মাকে।দেখি মায়ের মুখ।অনুভব করি মায়ের যতœ ভালবাসা। মাকে নিয়ে কত কবি লিখেছে কবিতা,কত গায়ক গাইছে গান।কবি ক্রিষ্টিনা রসেটির মতে,যে ঘরে মা আছে সে ঘরে শৃঙ্খলা আছে।আব্রাহাম লিঙ্কণ বলেছেন“ যার মা আছে সে কখনোই গরীব না। হৃদয় নিংড়ানো সব অনুভূতির মূলে আছেন মমতাময়ী মা।সব শেষে আমি আমার ভাষায় বলতে চাই,মা তুমি যে কত কষ্ট করেছ মোর লাগি।

শুশ্রুষা করেছো মোরে দিবা-রত্রি জাগি।
পারবোনা মা দিতে কভূ তোমার কষ্টের ঋণ
হবেনা মা সম্ভব যে তা কখনো বা কোন দিন।
তোমার সেবা করবো আমি সদা-সর্বদা
আল্লাহ রাসূলের পরে যে তোমার মর্যাদা
তুমি আমার আঁখি-হস্ত তুমি আমার সর্ব
তুমি আমার হৃদয়খনি তুমি আমার গর্ব।
তোমাদের দোয়া করি মা-বাবা ওই প্রভূর দরবারে
অশেষ শান্তি দিও দুনিয়া ও পরপারে।