মোহাম্মদ আব্দুর রহমান | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি


“ছেলেধরা” সন্দেহে ৮ নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ






গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে ৮ নারী ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পালানোর সময় উপজেলার ডাক বাংলোর সমনে থেকে তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশা চালক হালিম মিয়া জানান, দুপুরে যাত্রী নিয়ে তিনি হাসপাতালে যান। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি চার নারীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমপাউন্ডে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। পরে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরতে গিয়ে দেখেন সেখানেও ৪ নারীকে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘোরাঘুড়ি করছে । এ সময় ওই ৪ নারীর মধ্যে এক নারীকে দেখে বহির্বিভাগের এক নারী চিৎকার শুরু করেন। পরে স্বর্নের চেইন ছিনতাইয়ের সময় ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে এক নারীকে আটক করা হয়। আটককৃত নারীকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগী আরো ৭ নারী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মাহিন্দ্রাযোগে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ত্যাগ করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে উপজেলার ডাক বাংলোর সামনে থেকে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটককৃতরা হলেন-ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরের দরমন্ডল গ্রামের সেন্টু মিয়ার স্ত্রী পিংকি বেগম, একই এলাকার বদরুল মিয়ার স্ত্রী মাফিয়া বেগম, সোলমানের স্ত্রী খাইরুন, গোলাপ মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম, জামান মিয়ার স্ত্রী খাদিজা, জালাল উদ্দিনের স্ত্রী পারুল বেগম, মন্নান মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম ও কামরুল মিয়ার স্ত্রী আঞ্জুমান বেগম। এদের মধ্যে পিংকির কোলে সাকিব নামের ৯ মাসের, খাইরুনের কোলে আলী নুর নামের দেড় বছরেরও পারুলের কোলে সারোয়ার নামের ৯ মাসের শিশু ছিলো। শিশুরা তাদের নিজেদের সন্তান বলে দাবি করেন আটককৃতরা।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর মিয়া জানান, ছেলেধরা সন্দেহে ৮ নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাদেরকে থানা হেফাজতে আটক রাখা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট থানায় খোঁজ নিয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেধরার সাথে কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় গতকাল রাতেই পুলিশি নিরাত্তা দিয়ে মাহিন্দ্রা যোগে ঘোড়াশাল ব্রিজ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আটককৃত ওই নারীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য কয়েকদিন পুর্বে ও ছেলেধরা সন্দেহে আরো ও ৩ জনকে আটক করা হলেও ছেলেধরার সাথে কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।