ছাত্র কল্যাণে অনিয়মের অভিযোগ; কমিটিকে বিলুপ্ত করার দাবি


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ অগাস্ট ২০২০ - ১০:৪১:০৪ অপরাহ্ন

ঢাকাস্থ লাখাই উপজেলা ছাত্র কল্যাণের গঠনতন্ত্রকে অবমাননা করে একাধিক অছাত্রকে নব-গঠিত কমিটিতে দায়িত্ব ও সিনিয়রদেরকে তাঁদের যোগ্য-স্থান না রেখে জুনিয়রদেরকে তাঁদের জায়গায় স্থান দেয়া এবং ‘গঠনতন্ত্রে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করার লক্ষে গঠিত আহবায়ক কমিটির কোন সদস্যকে পরবর্তীতে কমিটিতে থাকার অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও একাধিক দায়িত্বে আহবায়ক কমিটিতে থাকা দায়িত্বশীলদের রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির একাধিক সদস্য। কমিটিতে উপজেলার বামৈ ইউনিয়নে একাধিক গ্রেট-পদ দিয়েছেন বলেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নব-গঠিত কমিটিকে বিলুপ্ত করতে দাবি করছেন অনেকে। কমিটি নিয়ে একাধিক আইডি থেকে আপত্তির কথা জানিয়েছেন সংগঠনের সাবেক এবং বর্তমান অনেক দায়িত্বশীলগণ।
সংগঠনে অছাত্রদের তালিকা কারা রয়েছে জানতে চাইলে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোন্তাতাছির তালুকদার বলেন, ‘আমার জানামতে সংগঠনে সহ-সভাপতি পদে ২জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২জন রয়েছে’। “সহ-সভাপতি পদে রয়েছে ২১নং সহ-সভাপতি আকিকুল ইসলাম (লাখাই বামকান্দি একটি মসজিদে কর্মরত) ও ২২নং সহ-সভাপতি পদে হাফিজ রায়হান (সৌদি আরব ফেরত, ঢাকায় টিউশনিতে করে)। সাংগঠনিক পদে রয়েছে ৬নং সাংগঠনিক সম্পাদক রুকন আদনান (বৃন্দাবন কলেজ থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রোণিতে উত্তীর্ণ হলে পরবর্তীতে আর কোথাও ভর্তি হয়নি) ও ১০নং সাংগঠনিক মোজাহিদুল ইসলাম নয়ন” (সরকারি শাহীন সোরাওয়ার্দী কলেজ থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হয়ে পড়ালেখা বন্ধ রয়েছে।
আহবায়ক কমিটি থেকে কারা আসছে জানতে চাইলে মোন্তাছির তালুকদার বলেন, আাহবায়ক কমিটি থেকে রয়েছে ৪নং সহ-সভাপতি আল আমিন ও ৪নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসান।
তিনি আরো বলেন, ‘কমিটিতে ১২৫ জনের মত সদস্য রয়েছে এরমধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছে ৫২ জন’। “এই ৫২ জনের মধ্যে বামৈ ইউনিয়নেরই রয়েছে ৩১ জন, এরমধ্যে বামৈ গ্রামের রয়েছে ২৩জন।
নব-গঠিত কমিটির সদ্য উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সাগর আহমেদ ভুঁইয়া তাঁর ফেইসবুক আইডিতে লিখেন, “ঢাকাস্থ লাখাই উপজেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের কমিটি বিলুপ্ত করা হোক, কেননা সিনিয়র-জুনিয়র মেন্টেইন মেনে কমিটি করা হয় নাই”।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্র কল্যাণের পদ প্রত্যাশা একজন বলেন, নতুন কমিটি হওয়ার পূর্ব থেকে আমি সংগঠনের সকল কাজেই জড়িত ছিলাম। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করলে ওনারা আমাকে সাবেক এক সাধারণ সম্পাদককে কল দেওয়ার জন্য বলা হলে, আমি কারণবশত ওনাকে কল না দেওয়ায় আমাকে পদ বঞ্চিত করা হলো। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয় যে, এই সংগঠন কি ঢাকায় পড়াশোনা করে লাখাই উপজেলা সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নাকি তথাকথিত প্রাক্তনের ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার কলাকৌশল।
সোস্যালে সংগঠনটি এমন অশুভ কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা উঠে আসায় সংগঠনটির সদ্য সাবেক আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ ইউ শুভ মন্তব্য করে বলেন, “আমরা সবাই ফেসবুকের কল্যাণে গত কমিটি পাবলিশ হওয়ার পর এই কমিটি নিয়ে যথেষ্ট কমেডি সীন সহ অপ্রীতিকর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় যদি আবার এইটার পুনরুথান ঘটে তখন লাখাইয়ের সচেতন পাবলিকের কাছে ঢাকার ছাত্রকল্যাণ সহ সাবেক, বর্তমান নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট সকলেই তাদের পদের সঠিক ব্যবহারের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তৈরী হতে পারে। পরে গ্র্যাজুয়্যালি প্রতি বছর কমিটিতে এমন আপোষ বিভ্রান্ত সম্বলিত কমিটি গঠনের নিউজ ছড়ালে এই ছাত্রকল্যান কমিটিও তার ওজন হারিয়ে কমেডি স্পেসে পরিনত হবে। যা আমরা কখনোই চাইনা। (মন্তব্যের অংশ বিশেষ)
সাইফুল ইসলাম জিহাদ নামে একজন মন্তব্য করে বলেন, প্রাণের সংগঠনের ভাবমূর্তি এবং সুনাম নষ্ট করার বৈশিষ্ট কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে থাকা সত্যিই লজ্জাজনক। কারণ ছাত্রকল্যাণ ঢাকাই অবস্থিত প্রতিটি ছাত্রের জন্যই। এখানে সবাই তার যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পাওয়ার অধিকার রাখে। (মন্তব্যের অংশ বিশেষ)
এবিষয়ে জানতে সংগঠনটির সভাপতিকে কল দিলে ওনার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করে উপরোক্ত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এসব অভিযোগকে নাকোচ করে বলেন, আমাদের জানামতে অছাত্র ও ঢাকায় পড়াশুনা করে না এমন কোন সদস্য আমাদের সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তবে খুব শীঘ্রই আলোচনায় বসবো এবং ঢাকায় পড়াশুনা করে না এমন কেউ সংগঠনের কোন দায়িত্বে থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিব।