অবশেষে ভাতা পেল-ছাতকের ৯ উপকারভোগী বয়োবৃদ্ধ


» উত্তরা নিউজ I সারাবাংলা রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৯:১৪:৪৫ অপরাহ্ন

ছাতক সংবাদদাতা: ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে আটকে রাখা কার্ডধারী ৯ জনের বয়স্ক ভাতা অবশেষে প্রদান করা হয়েছে। গত সোমবার বঞ্চিত এসব কার্ডধারীদের ডেকে এনে ভাতা প্রদান করা হয়। বিগত দু’বছরের ভাতা একত্রে প্রতি কার্ডধারীকে ১২ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এবং কয়েকটি জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকায় বয়স্কভাতা আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সংবাদ ও সম্পাদকীয় কলামে প্রকাশিত হলে বঞ্চিত কার্ডধারীদের ভাগ্যাকাশে উদিত হয় নতুন সূর্য্য। আটকে রাখা বয়স্ক ভাতা প্রদানে বাধ্য হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এসব কার্ডধারীদের ভাতা দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয়া হয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এবং তাদের কার্ডগুলো চেয়ারম্যানের কাছে রেখে দেন। পরদিন সোমবার বঞ্চিত কার্ডধারীদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া।

এসময় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সকলের কার্ড ভাতাভোগীদের হাতে ফিরিয়ে দেন চেয়ারম্যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোলাম কবিরের নির্দেশেই ভাতা প্রাপ্ত হয় বয়োবৃদ্ধ কার্ডধারীরা। দোলারবাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বয়োবৃদ্ধ ১১জনকে ভাতার আওতায় এনে সরকারীভাবে কার্ড ইস্যু করা হয় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। সরকারী সকল নিয়ম-নীতি অনুসরনের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্টি কর্তৃপক্ষ তাদের বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করেন। এ হিসেবে তাদের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয় এবং উপকারভোগীদের একাউন্টে ভাতার টাকাও এসে জমা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাঁধ সাধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ব্যাংক ম্যানেজার।

উপকারভোগীরা ভাতা তুলতে গিয়ে বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া ওই কার্ডধারীদের ভাতা প্রদান না করার জন্য কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখার ম্যানজারকে নির্দেশ দেন। আর ব্যাংক ম্যানেজার ক্ষিতিশ রঞ্জন তালুকদারও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চেয়ারম্যানের নির্দেশই তামিল করে যাচ্ছেন গত দু’বছর ধরে।

অবশেষে পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়টি প্রকাশিত হলে বয়োবৃদ্ধ এসব মানুষের ভাগ্যের ছিঁকে ছিড়ে। ভাতা পেয়ে তারা এখন খুবই আনন্দিত। তবে অন্যায়ভাবে তাদের হয়রানী করায় তারা দুঃখও প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া জানান, তিনি বৈধভাবে এসব কার্ডধারীদের ভাতা আটকানো হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় তাদের ভাতা প্রদান করা হয়েছে।