চীন থেকে ভারতে ডিসপ্লে কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে স্যামসাং


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ - ১১:০১:০৪ পূর্বাহ্ন

চীন থেকে ডিসপ্লের কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জল্পনা অনেকদিন ধরেই চলছে। এবার সে অনুযায়ী পুরোপুরি প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। চীন থেকে ডিসপ্লের কারখানা ভারতে সরিয়ে নিচ্ছে স্যামসাং। উত্তরপ্রদেশে তৈরি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ডিসপ্লে কারখানা।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, নয়ডায় ৪৮ দশমিক ২৫ বিলিয়ন রুপি খরচ করে ডিসপ্লে কারখানা তৈরি করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বহুমাত্রিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংকে তারা সব ধরনের সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি আরও জানানো হয়েছে যে, ভারতকে একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন মার্কেট, যেখানে পরবর্তীতে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ দেশে চীনা স্মার্টফোনের রমরমা ব্যবসায় হয়েছে। পূর্ব লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে চীনের আক্রমণে কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারতে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠলেও, এখনও পর্যন্ত ভারতে চীনের একাধিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

কিন্তু ভারতে স্যামসাংয়ের বাজারও খুব একটা খারাপ না না। এই কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের স্মার্টফোন ভোক্তাদের সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে। ভারতের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত দুই শ্রেণীর মানুষই স্যামসাংয়ের ভোক্তা। আর সে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন মার্কেটে স্যামসাংও বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশে স্মার্টফোন প্রোডাকশন বিপুল হারে বাড়ানোর জন্য ৬ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। মোট ১৬টি কোম্পানি এই অনুদান পাবে। এদের মধ্যে রয়েছে স্যামসাং, অ্যাপল, ফক্সকন, উইস্ট্রন এবং পেগাট্রন।

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতে কারখানা তৈরির জন্য ৭ বিলিয়ন রুপি আর্থিক সুবিধা ভোগ করবে স্যামসাং। কারখানার জন্য জমি স্থানান্তরকরণে প্রদেয় ট্যাক্স থেকেও ছাড় দেওয়া হবে সংস্থাটিকে। উত্তরপ্রদেশে স্যামসাংয়ের এই নতুন কারখানা একবার তৈরি হয়ে গেলে সেখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও হবে। তবে ভারতে এটাই প্রথম কোনো কারখানা নয়, ইতোমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে সংস্থাটির বিশাল একটি মোবাইল ফোনের উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।