চার প্রার্থীর শক্তিশালী অবস্থানে দলীয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী

ডিএনসিসি ৫১নং ওয়ার্ড

» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ - ০৯:৫৪:০৬ অপরাহ্ন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর নির্বাচনে ৫১নং ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ৪জন। ওয়ার্ডটিতে সরকার দলীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যাডমিন্টন প্রর্তীকে মোহাম্মদ শরীফুর রহমান, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আফাজ উদ্দিন। দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত টিফিনি ক্যারিয়ার প্রতীকে আবুল হোসেন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. মোঃ হুমায়ুন কবির।


নির্বাচনের আরও খবর পড়ুন


ডিএনসিসির এই ওয়ার্ডে গতবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ শরীফুর রহমান। বিগত দিনে কাউন্সিলর হিসেবে হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বেশ জনপ্রিয়তা ও সুনাম অর্জন করেছেন এই প্রার্থী। এছাড়াও শরীফুর রহমানের পিতা নওয়াব আলী মাস্টারের সুখ্যাতি এ অঞ্চলে অনেক আগ থেকেই বিরাজ করায় ওয়ার্ডের মুরব্বী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছেন শরীফুর। গতবারের নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় দলীয় প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। আসন্ন ভোটযুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী থাকায় কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তাকে। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে নিয়ে চিন্তিত নয় বরং প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী ভোটের দিন শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থী শরীফুর রহমান। এ ব্যাপারে তিনি উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘ইতিপূর্বের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভোট বর্জন করেছে। তাই এবারও তারা এমনটি করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় কিনা সে নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ অপরদিকে, প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী থাকার পাশাপাশি স্ব গোত্রের বিদ্রোহী আবুল হোসেনকে নিয়ে ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন শরীফুর রহমান।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে ঘুড়ি প্রতীকে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দিন। উত্তরার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ আগ থেকেই প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ায় ওয়ার্ডবাসীর কাছে বেশ পরিচিতি রয়েছে এই প্রার্থীরও। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এলাকার বিএনপির সমর্থকদের নজরে রয়েছেন তিনি। আসন্ন ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছেন বলে জানিয়েছেন আফাজ উদ্দিন। এ ব্যাপারে উত্তরা নিউজকে তিনি বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে ভোটাররা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমাকেই ভোট দিবেন। ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।’

ডিএনসিসি কাউন্সিলর নির্বাচনে ৫১নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই শক্তিশালী দুই প্রতিদ্বন্দ্বির পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত আবুল হোসেন। আগের বারের টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। পূর্বের হরিরামপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার থাকায় এলাকায় পরিচিতি রয়েছে এই প্রার্থীর। ওয়ার্ডস্থ সেক্টরগুলোর উন্নয়নে পূর্বে অবদান রেখেছেন দাবী করে প্রার্থী আবুল হোসেন উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘দল থেকে যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য নন। ইতিপূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। ২০১৪ সালের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন তিনি। তবে, এলাকার উন্নয়নে আমি কাজ করায় জনগণ আমাকে প্রার্থী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে তাই আমি প্রার্থী হয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আশা করি আমি জয়লাভ করব।’

অপরদিকে, এ ওয়ার্ডে মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ হুমায়ুন কবির। পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও কাউন্সিলর হিসেবে জনগণের সেবা করতে চান তিনি। তবে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষ ও আ.লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীর বিপরীতে জনগণের কাছে পরচিতি অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। নির্বাচনের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে এখন পর্যন্ত বেশ সাড়া ফেলতে পারেননি হুমায়ুন কবির। সবমিলিয়ে, ডিএনসিসি ৫১নং ওয়ার্ডে ভোটের দিনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন আদায়ে এগিয়ে রয়েছেন দুই দলের মনোনীত প্রার্থী যথাক্রমে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোহাম্মদ শরীফুর রহমান ও বিএনপি সমর্থিত আফাজ উদ্দিন। আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি ভোট শেষে জানা যাবে কে হচ্ছেন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি।