ঘটনার ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন ঢাবি ছাত্রী, মিলেছে ধর্ষণের আলামত : ঢামেক বোর্ড

ধর্ষণের প্রতিবাদে ক্যাম্পাস উত্তাল

» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ - ১২:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাসা শেওড়ায় যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত রোববার বিকেলে চড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাসে। তবে ভুলবশত শেওড়ার বদলে নেমে পড়েন বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে। এর পরই এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি অকস্মাৎ তার মুখ চেপে ধরে হাসপাতালের অদূরে গলফ ক্লাব সীমানার শেষ প্রান্তে ঝোপের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের মতো ভয়ংকর ঘটনার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী সেই শিক্ষার্থী।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে সে রাতেই সাড়ে ৯টার দিকে নিজেই সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় বান্ধবীর বাসায় যান ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রী। বিমানবন্দর সড়কের মতো ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংঘটিত এমন ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার দিনভর উত্তাল ছিল ঢাবি ক্যাম্পাস। ধর্ষককে গ্রেপ্তারে দেওয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। এ ঘটনায় গতকাল দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনেও নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিবাদ-ক্ষোভের মধ্য দিয়ে সেই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা। মানসিক যন্ত্রণা সামলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে তাকে আন্তরিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। এর আগেও বিমানবন্দর সড়কে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও রয়েছে সেসবের মধ্যে। এতে বিমানবন্দর সড়ক ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনার তদন্ত করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রথম দায়িত্ব। তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ন্যায়বিচার পেতে যা প্রয়োজন, তাই করা হবে। সে আমাদের মেয়ে- তা মনে রাখতে হবে। আশা রাখি, তার মনোবল শক্ত থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম সমকালকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর রাতেই ছোট্ট ওই মেয়েটিকে দেখতে ছুটে যাই। তাকে মানসিকভাবে শক্তি ও সাহস জোগানোর চেষ্টা করি। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার পাশে রয়েছে। তবে ওই খারাপ লোকটি দ্রুত গ্রেপ্তার হোক, এটা দেখতে চাই।

রাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। নির্ভয়ে চলার নিশ্চয়তা সবাই চায়।

সাদেকা হালিম বলেন, ছোট্ট একটি মেয়েকে কী ভয়ংকর ঘটনার শিকার হতে হলো। তার কাছ থেকে বর্ণনা শুনে মনে হয়েছে ওই ধর্ষক এ ধরনের কাজ আগেও করেছে। ঠান্ডা মাথায় ধর্ষণ করা হয়েছে। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর মেয়েটি অনেকের সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে যায়নি। ছোট্ট এই মেয়েটি এ ধরনের ভয়ংকর পরিস্থিতি একাই মোকাবিলা করে আবার সিএনজি অটোরিকশায় বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে- এটা তার অসম্ভব মানসিক দৃঢ়তার পরিচায়ক।

সাদেকা হালিম আরও জানান, ওই ছাত্রী অত্যন্ত মেধাবী। পরীক্ষায় রেজাল্টের দিক থেকে নিজ বিভাগে শীর্ষ চারে রয়েছে সে। সামনে তার পরীক্ষা। গ্রুপ স্টাডির জন্য বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিল সে। সে ভালো আবৃত্তিকারও।

ভীতিকর অভিজ্ঞতা :রোববারের ওই ঘটনার পর এরই মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন তার স্বজনরা। এ ছাড়া চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশের কাছে ভীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সোয়া ৭টার দিকে বাস থেকে কুর্মিটোলায় নামার পর আলো-আঁধারি পরিবেশে কেউ একজন পাশ থেকে তার মুখ চেপে ধরে। ওই লোকটির পরনে ছিল নোংরা জিন্স প্যান্ট ও শার্ট। এরপর তাকে জোর করে পাশের জঙ্গলে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার গলা টিপে ধরে ওই লোকটি। এতে প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, জঙ্গলে পড়ে রয়েছেন। তার পাশে তখনও ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান তিনি। ধর্ষক ওই ব্যক্তি তার কাছে নাম, পরিচয় ও কোথায় পড়াশোনা করছে- এসব জানতে চায়। একপর্যায়ে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর ব্যাগ খুলে লোকটি টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র দেখতে থাকে। এই সুযোগে পালিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন ওই ছাত্রী। তাকে পোশাক পরিবর্তন করতে বাধ্য করে ওই ধর্ষক। তার কাছে দুটি ব্যাগ ছিল। যে ব্যাগে দেড় হাজার টাকা ছিল সেই ব্যাগ খোয়া গেছে।

পড়ে ছিল বই, ঘড়ি আর ক্লাসের নোটবুক :ধর্ষণের শিকার তরুণী ঘটনাস্থলের বিষয়ে আভাস দিলেও নিশ্চিত করে স্থানটা চিহ্নিত করতে পারছিলেন না। গতকাল সোমবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনাস্থলটি শনাক্ত করেছে। সেখানে পড়ে ছিল ধর্ষকের বর্বর হিংস্রতার নানা আলামত। চিকিৎসকরাও মেয়েটির শরীরজুড়ে পেয়েছেন পাশবিকতার ক্ষতচিহ্ন।

গতকাল সকালে পুলিশ ও র‌্যাবের পৃথক দল বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে গলফ ক্লাব সীমানার শেষ প্রান্তে ঝোপের মধ্যে ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে। সেখানে এলোমেলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল মেয়েটির বই, ক্লাসের নোটবুক, লেকচার শিট। এর পাশেই পাওয়া যায় মেয়েটির ব্যবহূত ইনহেলার, চাবির রিং আর হাতঘড়ি। এমন আলামত জোরালোভাবেই ওই ছাত্রীর ওপর নির্মমতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। তিনি যে সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, তাও ছিল স্পষ্ট।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ওইসব আলামতের বাইরে ঘটনাস্থলেই মিলেছে একজোড়া জুতা ও কালো রঙের একটি জিন্স প্যান্ট। পুলিশ ধারণা করছে, এগুলো ধর্ষকের এবং ধর্ষণকাণ্ডে একজনই অংশ নিয়েছে। ওই শিক্ষার্থীও জানিয়েছে, একজনই তাকে ধর্ষণ করেছে।

গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ গজ সামনে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সেখানে যেতে গলফ ক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের শেষ প্রান্তে একটি যাত্রী ছাউনি পার হতে হয়। অদূরেই রয়েছে বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড। পাশেই রয়েছে ফুটপাত, সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট। ধর্ষণস্থলজুড়ে মেহগনি গাছের সারি, নিচে ছোট ছোট বরই গাছ। এর মধ্যেই বেড়ে উঠেছে ঝোপঝাড়, গাছগুলো জড়িয়ে আছে লতাগুল্মে। মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয় এমন একটি ঝোপের মধ্যে।

স্থানীয় লোকজন বলছিলেন, ঘটনাস্থলের অদূরে ফুটপাত ধরে মানুষের চলাচল রয়েছে। কিছু জায়গায় ল্যাম্পপোস্টে আলো ছড়ালেও অধিকাংশ বাতি জ্বলে না। তাই সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। এলাকাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরাও আছে। কিছু ক্যামেরা অকার্যকর। তবে বিমানবন্দর সড়কের মতো একটি জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে প্রায়ই চুরি-ছিনতাই হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পরিস্কার না করায় ফুটপাত থেকে ঝোপের আড়ালে কিছু দেখা যায় না। ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি ছুটতে থাকায় উচ্চ শব্দের কারণে ঝোপের ভেতরে চিৎকার করলেও তা কারও শুনতে পাওয়া কঠিন।

ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আশপাশে কোলাহল থাকলেও ঘটনাস্থলটি কিছুটা বিচ্ছিন্ন। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে সবাই যাওয়া-আসার মধ্যে থাকে, কেউ থামে না। এটা এতবড় ক্রাইম হওয়ার মতো জায়গা না। কিছু ঝোপঝাড় ছিল, অপরাধী হয়তো সেই সুবিধাই নিয়েছে। তবে তাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ধর্ষককে আইনের আওতায় নিতে মাঠে রয়েছে। দ্রুতই ধর্ষক আইনের আওতায় আসবে বলে আশা তার।

ক্যান্টনমেন্ট থানার কাজী শাহান হক বলেন, আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আলামতের বিশ্নেষণ চলছে। ধর্ষককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সবাই তৎপর।

মিলেছে ধর্ষণের আলামত :ধর্ষণের পর মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর তিনি রোববার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে একটি অটোরিকশা নিয়ে শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যান। পরে তাকে পুরো ঘটনা বলেন। এরপর সহপাঠীরা তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। রাত ১টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পান। চিকিৎসকের ভাষ্যে ওই শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষকের হিংস্রতার তথ্য বেরিয়ে আসে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ সমকালকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। মেয়েটির গলা টিপে ধরা হয়েছিল। গলায় সেই দাগ রয়েছে। তার ঠোঁট এবং হাতেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। জোরপূর্বক যৌনকর্মের আলামত পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রীর শরীরে আঘাতগুলোর মধ্যে কিছু ধর্ষকের মাধ্যমে হয়েছে। আবার কিছু ঘটনাস্থলের কারণেও হয়েছে। মেয়েটির গলায় ধর্ষকের হাতের চিহ্ন আছে। মনে হচ্ছে, ধর্ষক তার গলা টিপে ধরেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণে বাধা পেয়ে ওই আঘাত দেওয়া হয়েছে। লাথি মারার আঘাতও রয়েছে।

ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মেয়েটির ভাষ্য তার ওপর চারবার ‘নির্যাতন’ করা হয়েছে। তিনি বলছেন, একই ব্যক্তির মাধ্যমে এটা হয়েছে। যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে তখনও তিনি ধর্ষককে তার পাশে দেখেছিলেন। তার ব্যাগে কিছু খুঁজছিল ওই ধর্ষক। এই ফাঁকেই সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন ওই ছাত্রী।

তবে সেখানে এক নাকি একাধিক ব্যক্তি ছিল, তা নিশ্চিত হতে আলামতের ডিএনএ প্রোফাইলিং ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, ঘটনার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে তাকে সাহস দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসায় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল তার সার্বিক চিকিৎসায় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সালমা রউফকে বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ওই শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত। মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। এর বাইরে শারীরিকভাবেও অসুস্থ তিনি। তার শ্বাসকষ্ট আছে। সেভাবেই তার চিকিৎসা চলছে। বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড তার সর্বাত্মক চিকিৎসা দিচ্ছে। মানসিক ট্রমা থাকলেও শারীরিকভাবে দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন।

পরিচালক বলেন, ওসিসিতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর শয্যার কাছে তদন্ত ও চিকিৎসা সংশ্নিষ্টদের ছাড়া কাউকে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

মামলা :গতকাল সকালে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় এক ধর্ষককে আসামি করে মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন। গতকাল রাতেই মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নানা ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবির কাছে ন্যস্ত হলেও র‌্যাব ও পিবিআই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ধর্ষককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিতে প্রযুক্তিগত তদন্তের পাশাপাশি নানা ধরনের আলামতও বিশ্নেষণ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান জানিয়েছেন, তাদের টিম ধর্ষককে শনাক্তে প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে। যে কোনো মূল্যে ধর্ষককে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, র‌্যাবও ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। কিছু আলামতের সূত্র ধরে ধর্ষককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।