গোলাম রব্বানি হত্যা : আসামির জামিনে শুনানি ২২ নভেম্বর


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২০ - ১২:৩২:৫৯ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা ও ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার সাক্ষী কমডোর গোলাম রব্বানী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আবু নাসের চৌধুরীর জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন চেম্বারজজ আদালত। এ বিষয়ে আগামী ২২ নভেম্বর শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

আসামির করা আবেদনের বিষয়ে শুনানি না করে রোববার (১৫ নভেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বারজজ আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে আদেশ দেন।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন- হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবী নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আবু নাসের চৌধুরী জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সে আবেদনটি চেম্বারজজ আদালতে শুনানির জন্য ছিল। কিন্তু আদালত আবেদনটি না শুনে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী ২২ নভেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

২০০৪ সালের ১১ এপ্রিল মাইক্রোবাসে করে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রোসেসিং জোনের (কেইপিজেড) তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রব্বানী। ১৩ দিন পর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রব্বানী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নৌ-পরিবহন বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করেছিলেন।

গোলাম রব্বানী হত্যা মামলার রায়ে মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ হাশেম ও আব্দুল মালেক সোহেল নামের তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

কিন্তু অন্য দুই আসামি কেইপিজেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবু নাসের চৌধুরী ও সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে দেয়া হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড।

আপিল শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ‘কম সাজা’ দেয়া হলেও বিচারিক আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেনি বলে হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়।

আবু নাসের চৌধুরী ও হুমায়ুন কবিরের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

এছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া তিন আসামির মধ্যে মো. হাশেম ও সোহেল হাই কোর্টে খালাস পান; মো. সেলিমের যাবজ্জীবন বহাল থাকে।

এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মানসুর আলম ও সাইফুল ইসলাম ওরফে বিলাই সাইফুলকে নিম্ন আদালতের রায়ে খালাস দেয়া হয়। এদের মধ্যে সাইফুল বিচার চলাকালে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। বাদীপক্ষ সাইফুলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলেও মানসুর আলমের বিরুদ্ধে করেনি। সাইফুলের বিষয়ে বিচারিক আদালতকে নতুন করে রায় দিতে বলেন হাইকোর্ট।

২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেয়া হাইকোর্টের রায়ের ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর এ হত্যা মামলার নথি ও হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি চট্টগ্রামে বিচারিক আদালতে পৌঁছায়।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দণ্ডিত তিন আসামি আবু নাসের চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও সেলিমকে আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে দণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি আসামি সাইফুল ইসলামকেও ৮ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট রায়ে বলে দেন, তার জামিন বিবেচনার পূর্ণ স্বাধীনতা বিচারিক আদালতের আছে।

হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর দণ্ডিত দুই আসামি আবু নাসের চৌধুরী ও মো. সেলিম বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুহিতুল হক এনাম চৌধুরী তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তারা কারাভোগ করছেন। এর মধ্যে আবু নাসের চৌধুরী আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন; যে আবেদনের শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী ২২ নভেম্বর।