গোলাপী বলের টেস্টে ১০৬ রানেই অলআউট মমিনুলরা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৯ - ০৫:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন

গোলাপী বলে ঐতিহাসিক টেস্ট। বর্ণিল সব আয়োজন। মাঠ ভরা দর্শক। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মনে রাখার মতো সব আয়োজনকে সমর্থকদের জন্য ভুলে যাওয়ার উপলক্ষ বানিয়ে দিলেন।

টস ভাগ্যটাও সহায় ছিল। পছন্দমতো প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তও নিতে পারল বাংলাদেশ। কিন্তু এত সুন্দর সাজানো গোছানো মঞ্চটা ভেঙে পড়লো টাইগার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায়, দৃষ্টিকটু ব্যাটিং পারফরম্যান্সে।

দেশের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্টকে হাস্যরসের মঞ্চ বানালেন ইমরুল-মুশফিক-মাহমুদ্ল্লাহরা। টেস্ট ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয়, সেটা যে তারা জানেন, মনে হলো না ব্যাটিং দেখে। বরং মনে হলো, টেস্টের নবীন কোনো দল খেলতে নেমেছে অভিজ্ঞতা অর্জনের আশায়।

ভারতের তিন পেসারই শেষ করে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। গতি-সুইং যতটা না ছিল, তার চেয়েও বেশি যেন ভয় ছিল টাইগার ব্যাটসম্যানদের মনে। কখনও তো মনে হচ্ছিল, বল দেখতেই পাচ্ছেন না তারা। ভুলভাল ব্যাট চালিয়ে একের পর এক আউট হলেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩ ওভারেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেল ১০৬ রানে।

অথচ টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তে শুরুটা বেশ সাবধানীই করেছিলেন ইমরুল ও সাদমান। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে ভারতীয় ফিল্ডারদের জোরাল আবেদনে অবশ্য আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ইমরুল কায়েসের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন কট বিহাইন্ডের। তবে ইমরুল নিশ্চিত ছিলেন বলটা তার ব্যাটে লাগেনি, সঙ্গে সঙ্গে নেন রিভিউ।

Umesh Yadav picked three wickets in the first session.

রিপ্লেতে দেখা যায় বলটা লেগেছিল তার থাই প্যাডে। যার ফলে সে দফায় বেঁচে যান বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু এক বল পর, সে ওভারেরই পঞ্চম বলে ইশান্ত শর্মার ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি তিনি। সোজা আঘাত হানে প্যাডে, লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার। এবারও রিভিউ নেন ইমরুল।

কিন্তু রিপ্লেতে দেয়া যায় বলটা সোজা আঘাত হানতো লেগস্টাম্পে। যার ফলে আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান ইমরুল। যার ফলে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চাপেই পড়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

সেই চাপ কয়েকগুণ বেশি ভারী হয় পরের ৬ ওভারের মধ্যেই। ইনিংসের ১১তম ওভারের প্রথম বলে অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট এগিয়ে দিয়ে সেকেন্ড স্লিপে থাকা রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল হক। এক পর সরাসরি বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।

এ দুইজনের দেখাদেখি পরের ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগেই সোজা বোল্ড হয়ে যান মুশফিকুর রহীম। টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাটসম্যানের শূন্য রানের ফেরার মাত্র ৫ম ঘটনা এটি।

তিন এম খালি হাতে ফিরলেও ভালো খেলছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। কাউন্টার অ্যাটাকে একাই করছিলেন দলের সব রান। তাই তো দলীয় ৩৮ রানের মাথায় যখন ফিরে যান তিনি, তখন তার নামেই পাশেই লেখা ২৯ রান। বাকি ৯ রানের মধ্যে আবার ৫ রানই আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।

এরপর বেশিক্ষণ থাকা হয়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। লিটন দাস উইকেটে এসেই জোড়া চার মেরে চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ তা পারেননি একদমই। যার ফলশ্রুতিতে ২০তম ওভারে ঋদ্ধিমান সাহার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে মাত্র ৬ রানে আউট হন তিনি।

সাদমানের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে যা একটু লড়াই করছিলেন লিটন দাস। কিন্তু তিনিও ২৪ রানের মাথায় মোহাম্মদ শামির বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর ইবাদত হোসেন ফেরেন ১ রানেই, ইশান্ত শর্মার বলে বোল্ড হয়ে।

লিটনের চোটে বাংলাদেশের প্রথম বদলি ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৮ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি, ইশান্ত শর্মার চতুর্থ শিকার হন তিনি। এরপর ১৯ রান করা নাইম হাসানকে বোল্ড করে ইনিংসে নিজের ৫ উইকেটও পূর্ণ করে ফেলেন ভারতের দীর্ঘকায় এই পেসার।