গুগল-ফেসবুক থেকে রাজস্ব আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২০ - ১১:২৯:১০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজনসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত অর্থ থেকে সব ধরনের ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করাসহ পাঁচটি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে এবং রাজস্ব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তা যথাযথ ঘোষণা করে রোববার (৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে শুনানিতে সহযোগিতা করেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের, ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক ও ব্যারিস্টার সাজ্জাদুল ইসলাম।

গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব থেকে রাজস্ব আদায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব জাগো নিউজকে বলেন, অনতিবিলম্বে সকল ইন্টারনেট কোম্পানি যেমন গুগল-ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজন এবং এমন কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল প্রকার ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি জানান, গুগল-ফেসবুক এবং অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার বিষয় এবং বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিবাদীদের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছেন। সেগুলো হলো-

>> অনতিবিলম্বে সকল ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি যেমন- গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজনসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সকল প্রকার ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

>> ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে বিগত পাঁচ বছরে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে হবে।

>> উক্ত রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর হলফনামা আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।

>> এই রায়টি একটি চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস ম্যানডেমাস হিসেবে বলবৎ থাকবে।

>> এই রায়ের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আদালতে আবেদন দাখিল করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।

২০১৮ সালে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে ব্যারিস্টার মো. হুমায়ন কবির পল্লব, মোহাম্মদ কাওছার, মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের এবং মো.সাজ্জাদুল ইসলাম।