গার্মেন্টস এর ন্যায় মসজিদও খুলে দেওয়া হোক


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২০ - ১১:০৫:৩১ অপরাহ্ন

আস্তিক নাস্তিক সবাই মসজিদ নিয়ে আগ্রহী। নাস্তিকরা তো সব সময় চায় মসজিদ বন্ধ রাখতে।এখন আস্তিকরাও উঠে পড়ে লেগেছে মসজিদ বন্ধ করতে।বিশ্বব্যাপি করোনার প্রাদুর্ভাবে বিপর্যয়ের মুখে জন জীবন।চারদিকে হাহাকার। অবুঝ শিশুর রোনাজারিতে মা বাবা অসহায়। আল্লাহর ঘর মসজিদে এই রমজানেও মানুষ ইবাদত করতে পারছে না।সর্বোচ্চ বারো জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের নিয়েম বেধে দিয়েছে সরকার। অথচ গার্মেন্টস গুলো গত ২৬ এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে।গার্মেন্টস ছুটি হলে সামাজিক দূরত্ব আর থাকেনা।

মানলাম গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের কাজ করাবেন।কিন্তু এসব শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে যাওযার সময় কি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে? শ্রমিকরা গাড়িতে গাদাগাদি করে বসে যাতায়াত করছে।তখন সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকল কোথায়? মসজিদে যারা নামাজ পড়তে যায় তারা একই মহাল্লার লোক।এতে সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনেকটা নিরাপদ বলা যায়।কিন্তু গার্মেন্টেস গুলোতে যারা কাজ করে তারা বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কাজে যোগ দিতে আসে।এদের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি মসজিদের মুসল্লি থেকে ৬০% বেশি হওয়ার কথা।তা স্বর্থেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গার্মেন্টস গুলো চালু করা হয়েছে।সে জন্যে কোন আপত্তি করছিনা।

কিন্তু গার্মেন্টস খোলা রেখে মসজিদ বন্ধ করলেই করোনার সংক্রমণ রোধ কি সম্ভব?যেখানে আল্লাহর রহমত নাযিল হয় সেখানে ১২ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে আর গার্মেন্টসে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করবে তাতে কোন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।গককালের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছবি গুলো দেখলে গা শিউরে উঠে।সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ থাকলেও গামেন্টেসে এমন গিজগিজ অবস্থার কেন?

তাহলে কি বিষয়টি এমন যে গার্মেন্টেসে গেলে করোনার ভয় নেই, আর মসজিদে গেলেই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আছে?এই পবিত্র রমজানে সবাই মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করলে সেই উছিলায় আল্লাহ এই মহামারী দূর করে দিতে পারে। গার্মেন্টস খোলা রেখে মসজিদ বন্ধ করে রাখা এটা ঈমান নিয়ে চিনিমিনি খেলা নয় তো? নাকি জাতির সাথে ঠাট্টা করছে সরকার? তা না হলে গার্মেন্টসে শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারিত না হলেও মসজিদে কেন ১২ জন নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার?

গার্মেন্টস যেভাবে শর্তাসাপেক্ষে খোলা দেওয়া হয়েছে মসজিদও খোলে দেওয়া হোক।অসুস্থ,বৃদ্ধ আর শিশু না আসার শর্তে মসজিদে পূর্বের ন্যায় খোলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী