গাজীপুরে আসক’র মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব মীমাংসা


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২০ - ১২:৩৯:০৬ অপরাহ্ন

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার বছর আগে প্রতিবেশি ষাটোর্ধ্ব চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে নিজ ১২ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে মাসুদ রানা (৪২)। দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে যাওয়ার পর আদালতে এ মামলা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। সূত্রে জানা যায়, কিন্তু, তারপরেও নানামুখী প্ররোচনায় মাসুদ রানা তার ওই চাচাতো ভাই (আলহাজ্ব আব্দুল খালেক) এর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মামলা থেকে সরে দাঁড়ালে মানহানির মামলায় জড়িয়ে যেতে পারেন বাদী মাসুদ রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা, এই ভয়ে মামলা হতে সরে আসছিলেন না তিনি।

শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ঢাকা জোনের উদ্যোগে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ ছুড়ে ফেলে শান্তির সাথে বসবাস করার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

এমন নজীরের সূত্রপাত গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন বিশাইদ নামক এলাকায়। রবিবার (২১ জুন) আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ঢাকা জোনের ডিভিশনাল চীফ মুহাম্মদ লোকমান হোসেন সাহফীর নেতৃত্বে সংস্থাটির ইনফরমেশন ইনভেস্টিগেশন ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম, লুৎফর রহমান মোল্লা, মাসিক ভিন্নমাত্রা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, গণমাধ্যমকর্মী শহিদ হোসাইন এর সমন্বয়ে একটি টিম রাজধানীর উত্তরা হতে গাজীপুরস্থ কালিয়াকৈরে বিবাদমান ওই দুই পক্ষের সমস্যা নিরসনে ছুটে যান।

সরেজমিন পর্যবেক্ষনে গিয়ে আসক’র পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে উঠান-বৈঠকে একত্রিত করে একে অপরের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোন মামলা-হয়রানি বা শত্রুতা না করার প্রস্তাব দিলে মামলার বাদী মাসুদ রানা ও বিবাদী চাচাতো ভাই আলহাজ্ব আব্দুল খালেক তা গ্রহণ করে। এ সময় ওই এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বী যথাক্রমে- আব্দুল মালেক, ইব্রাহিম, মো: নুরুউদ্দিন, আব্দুল সামাদ, মো: নিয়াজ উদ্দিন (সাবেক মেম্বার), উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলের সামনে মাসুদ রানা তার চাচাতো ভাইয়ের হাতে হাত রেখে ক্ষমা চাইলে আবেগ আপ্লুত বাক্যে ষাটোর্ধ্ব আলহাজ্ব আব্দুল খালেক ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং একই সাথে মাসুদ রানা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানহানি কিংবা কোন হয়রানিমূলক মামলা ভবিষ্যতে করবে না বলে আসক’র কমিটিকে প্রতিশ্রুতি দেন।

আসক কর্তৃক শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন দৃষ্টান্ত দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উক্ত উঠান-বৈঠকে উপস্থিত হওয়া মুরব্বী ও এলাকাবাসীগণ। এ বিষয়ে আব্দুল মালেক নামের এক মুরব্বী বলেন, ‘দুই পক্ষের লোকেরে এইভাবে মিল কইরা দেয়ার ঘটনা আমি জীবনে কোনদিন দেখি নাই। উনারা (আসক) ঢাকা থাইকা আইসা দুই পক্ষরে এত সুন্দরভাবে মিলায়ে দিছে দেইখা আমাগোও ভালা লাগতেছে।’

এদিকে, উভয় পক্ষের দীর্ঘদিনের ঝামেলা মিমাংসা করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ঢাকা জোনের ডিভিশনাল চীফ মুহাম্মদ লোকমান হোসেন সাহফী। এ বিষয়ে তিনি উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার কর্মীগণ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাাচ্ছি। এটাই হচ্ছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর শিক্ষা। মূলত সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে তৃপ্তি লাভ করা যায়, তা অন্য কোন কাজেই পাওয়া যায়না। তাই আমরা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, ঢাকা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও যাব।’