গবাদিপশু-পাখির টিকা উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতার্জনে অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে -প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা:  প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় মহাখালীস্থ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবাদিপশু অর্থাৎ গরু ও ছাগল-ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে তিনটি আধুনিক ল্যাবে নিয়মিতভাবে মোট ১৭ প্রকার টিকার উৎপাদন করা হয়। তন্মধ্যে গরুর এফএমডি, ছাগল-ভেড়ার পিপিআর এবং হাঁসমুরগির রাণীক্ষেত রোগের টিকা উল্লেখযোগ্য। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট ১৯কোটি ৩৭লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৯কোটি ১৫লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৩কোটি ৪০লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪কোটি ৭৩লাখ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫কোটি ৬৩লাখ ডোজ টিকা উৎপাদিত হয়েছিল। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মার্চমাস পর্যন্ত প্রায় ১৯কোটি ডোজ টিকা উৎপাদিত হয়েছে যদিও ২৮কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা যথাযথভাবে অর্জিত হবে বলেও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ আইনুল হক জানিয়েছেন। আজ মৎস্য ও প্রানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু প্রতিষ্ঠানটির তিনটি টিকা-উৎপাদনকারী ল্যাব পরিদর্শনকালে তাকে এসব তথ্য জানানো হয়। পরিদর্শনশেষে আয়োজিত সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও কুমিল্লার ল্যাবসমূহে আমাদের চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ টিকা উৎপাদিত হয় এবং ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যা প্রত্যাশিত নয়। প্রধানমন্ত্রীও চান এদেশে শতভাগ টিকা উৎপাদনকারী অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপিত হোক এবং তিনি তার নির্দেশনাও দিয়েছেন। তাই গবাদিপশু-পাখির টিকা উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতার্জনে শিগগির অত্যাধুনিক ল্যাবস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বৈদেশিক মূদ্রাব্যয়ে টিকা আমদানির বদলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আরো দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। অর্থাভাবে যেন টিকা উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। উল্লেখ্য যে, মোট ৮.১৯ একর জমির ওপর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত ‘রিন্ডারপেস্ট’ টিকাদ্বারা বাংলাদেশ হতে রিন্ডারপেস্ট-রোগ নির্মূল হওয়ায় ২০১০ সালে OIE (বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা) কর্তৃক বাংলাদেশকে রিন্ডারপেস্ট রোগনির্মূলের স্বীকৃতিসনদ প্রদান করা হয়।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ আইনুল হকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডল, অতিরিক্ত সচিব (প্রাণিসম্পদ) কাজী ওয়াসি উদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মপ্রধান লিয়াকত আলী, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বক্তৃতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: