গফরগাঁওয়ে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ছিলেন জনগণের অভিভাবক


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৯:২৮:১০ অপরাহ্ন

তারেক সরকার, গফরগাঁও প্রতিনিধি: গফরগাঁয়ের অবিসংবাদিত নেতা গফরগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের একজন রাজনৈতিক অভিভাবক।গফরগাঁও উপজেলার আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ময়মনসিংহ পাগলা নিগুয়ারী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। নিগুয়ারী ইউনিয়ন উনার নানার বাড়ী। তাঁর পিতার নাম মরহুম রোস্তম আলী গোলন্দাজ। উনারা ছিলেন তিন ভাই। সবার বড় ছিলেন তিনি। অন্য দুই ভাই হলেন-মরহুম ইকবাল হোসেন গোলন্দাজ রতন, মরহুম ইমামুল হোসেন গোলন্দাজ মানিক। উনার স্ত্রীর নাম মাহফুজা গোলন্দাজ। তিনি দুই ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তারা হলেন- মরহুম ফুয়াদ গোলন্দাজ জগলু, ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল (মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-১০) এবং মেয়ে আঞ্জুম গোলন্দাজ।
আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের আদি পুরুষ ছিলেন পারস্যের অধিবাসী। তারা মোগল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের সাথে ভারতবর্ষে আগমন করেন। পরবর্তীতে মোগল সম্রাজ্যের বিস্তৃতির সাথে সাথে পারস্য জাতির বিভিন্ন গোত্র উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বাবরের গোলন্দাজ বাহিনীর কোন এক গোত্র পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। পরে তাদের কেউ কেউ বাংলার নবাবের অধীনে চাকুরী গ্রহণ করেছিলেন। তারা ছিলেন কর্তব্যপরায়ণ স্বাধীনতাপ্রিয় বীরযোদ্ধা।
তাই বংশানুক্রমে নবাবের গোলন্দাজ বাহিনীতে তাদের স্থায়ী আসন রক্ষিত হয়। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উ-দৌল্লার সাথে যখন রাজদরবারের সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদেরকে সমর্থন করে,সেই দুর্দিনে নবাবের পক্ষে ছিলেন এই গোলন্দাজ বাহিনী।পলাশীর আম্রকাননে নবাবের পক্ষ হয়ে দেশপ্রেমিক মোহনলাল ও মীর মর্দান যখন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন মীর মর্দানের অধীনস্ত এই গোলন্দাজ বাহিনীর সদস্যরাও যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন। তারা নবাবের সাথে বেঈমানী করেননি। যুদ্ধ পরাজিত হয়ে তারাও ষড়যন্ত্রকারী মীর জাফর ও ইংরেজদের কোপানলে পড়েন। তাই জীবন বাচানোর তাগিদেই ভাগ্যান্বেষনে তারা মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পূর্ববাংলায় চলে আসেন।
অতঃপর গোত্রের বিভিন্ন লোক বিভিন্ন দিক ছড়িয়ে পড়েন। একটি দলের সর্দার পীর মাহমুদ গোলন্দাজ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার বাগুয়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তখন এই বাগুয়া ছিল হিংস্র জীব জন্তুতে ভরপুর নির্জন বনভূমি পীর মাহমুদ গোলন্দাজকে মুগ্ধ করেছিল। তার যুদ্ধপ্রিয় মন এই নির্জন প্রকৃতির সাথে সংগ্রামের নতুন পথ খোঁজে।পেয়েছিলো। এখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। এখান থেকেই বর্তমান গোলন্দাজের গোড়াপত্তন। পীর মাহমুদ গোলন্দাজের ছেলে বারহামদী গোলন্দাজ, বারহামদী গোলন্দাজের ছেলে ইনসান আলী গোলন্দাজ, ইনসান আলী গোলন্দাজের ছেলে রোস্তম আলী গোলন্দাজ আর রোস্তম আলী গোলন্দাজের ছেলে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ।
ছাত্র জীবনে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে বি.এ.পাস করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ছিলেন বেশ পারদর্শী। কৈশোর থেকেই দুরন্ত গোলন্দাজ অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন। সততা ছিল তার সঙ্গী। অন্যায়ের সাথে, অসত্যের সাথে, অকল্যাণের সাথে জীবনে কখনো কোন আপোষ করেননি তিনি। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্মে ছিলেন। তৎকালীন সময়ে কোটিপতি পিতার ঘরে জন্ম নিলেও ধন সম্পত্তি, বিত্ত-বৈভব-প্রাচুর্য তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। অতি সাধারণ, সাদামাটা জীবন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের সুখ নয়, দেখতে চেয়েছিলেনে মানুষের সুখ। গরীব -দুঃখী-অসহায়, নির্যাতিত-নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের সুখ। স্বীয় মহৎকর্মের ভেতর দিয়ে তিনি রচনা করতে চেয়েছিলেন একটি শান্তিময় উদ্যান। তিনি মানুষকে ভালবেসেছেন এবং মানুষের ভালবাসাও পেয়েছেন। ছাত্র জীবনেই তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতির সঙ্গে।
উনার রাজনৈতিক যাত্রা সূচিত হয় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি দিয়ে। তিনি ১৯৬৯ সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে গফরগাঁও কলেজ ছাত্র সংসদেরে ভি.পি. নির্বাচিত হন। পরবর্তী রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদানের মাধ্যমে।
১৯৭৯ সালের শেষের দিকে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন । ১৯৮৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উনার সুযোগ্য উত্রর সরি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল। এক বার উপজেলা চেয়ারম্যান, দুই দুই বার সংসদ সদস্য।