‘কয়লায় শ্বাসরুদ্ধ: কার্বন বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ’

শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ - ০৭:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর ২০১৯: বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬৩ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনায় বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ভারতের মতো বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় মার্কেট ফোর্সেস ও থ্রি ফিফটি এর যৌথ গবেষণা ‘কয়লায় শ্বাসরুদ্ধ: কার্বন বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটারকির্পাস বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন। এছাড়া, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাপার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্রতীর নির্বাহী প্রধান শারমীন মুরশিদ এবং লিগ্যাল ইকোনোমিস্ট এম. এস সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বিদেশী অর্থায়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টিতে উন্নীত করা হবে, বিদ্যমান ৫২৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৩ হাজার ২ শত ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করবে। যা বায়ুমণ্ডলে বার্ষিক ১১ কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন অতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ করবে। আর এটি সত্যিকারভাবে একটি কার্বন বিস্ফোরণের ঘটনা, যা জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতিকর প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত বিশ্লেষণ বলছে, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণেই বাংলাদেশ তার স্থলভাগের ১১ শতাংশ হারাবে এবং চার ও পাঁচ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার ঝুঁকি ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে, যা উপকূলে বসবাসরত ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ফেলবে। তারপরও পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ২৯টি কয়লা-নির্ভর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন উপরোল্লিখিত বিপর্যয়কে বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।

বড় আকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা মূলত বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নির্ভর, যেটি সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণভার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্যকে আরো প্রকট করে তুলবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশকে বার্ষিক ২শত কোটি ডলার মূল্যের ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন কয়ল আমদানি করতে হবে। যা বাংলাদেশকে কয়েক দশকের জন্য উচ্চমূল্যের কয়লা আমদানির ফাঁদে ফেলে দেবে, যেটি কিনা নতুন অথনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও তৈরি করবে।

বিশ্বে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ সবচেয়ে ক্ষতিকর ও নোংরা জ্বালানী হিসেবে বিবেচিত। যা বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, পিএম ২.৫, কয়লার ছাই ও এসিড নির্গমনের মাধ্যমে বায়ু ও পানি দূষণে বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, পারদ, শিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারি ধাতু নির্গমন করে, যা দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে শুরু করে অকাল মৃত্যুরও কারণ। এই বিবেচনায় এটি পরিবেশের জন্য বিপর্যয়কর একটি পরিকল্পনাও।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন “এটি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু, অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।” কয়লা ভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগ্রাসী এই পরিকল্পনা বাংলাদেশকে অসম্মানজনক ও কুখ্যাত একটি ক্লাবের সদস্য করবে, যেখানে মাত্র ৫টি দেশকে বিবেচনা করা হয়। দেশগুলো হলো চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও ভিয়েতনাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ২৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পেছনে সবচে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বিদেশি অর্থায়ন, যেটি বাংলাদেশকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দিক থেকে ১২তম অবস্থান হতে ষষ্ঠ অবস্থানে উন্নীত করেছে। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন বিকল্প জ্বালানী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে সেখানে বাংলাদেশ কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, মূলত আত্মহননের নামান্তর। ইউনিসেফ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সংঘটিত বন্যা ও সাইক্লোনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন বলে সতর্কতা দিয়েছে। আর এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ বাংলাদেশকে গভীর সঙ্কটে ফেলে দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্থাপিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ হাজার মেগাওয়াট, যার মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ কয়লা-নির্ভর। সেই হিসেবে দেশের বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসা ৯০ ভাগ মানুষ উপকৃত হচ্ছে কোনো ধরনের কয়লা আমদানি নির্ভরতা ছাড়াই।

মূলত চীনা ব্যাংক ও কোম্পানি প্রস্তাবিত কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ নির্মাণে বড় ভূমিকা পালন করছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অর্ধেকই অর্থায়ন করছে চীনারা। যুক্তরাজ্য ও জাপান নিজেদের দেশে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকে উৎসাহিত করলেও বাংলাদেশে প্রত্যেকে তিনটি করে কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে অর্থের যোগান দিচ্ছে। যদিও যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালের মধ্যে কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত বিশ্ব ঐতিহ্যের অর্ন্তভুক্ত সুন্দরবনের অদূরে রামপালে বহুল বিতর্কিত কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, “সারা বিশ্ব যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বন্ধ করছে, বাংলাদেশ তখন কয়লা আকড়ে ধরছে। অথচ এর কোনো প্রয়োজন নেই, এর জন্য আমরা প্রবল ক্ষতির সম্মুখীন হব। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের কয়লার ব্যবহারই নিরাপদ নয়। আর বাংলাদেশের জ্বালানী চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো ধরনের জীবাষ্ম জ্বালানীর প্রয়োজন নেই, সবটাই নবায়ন যোগ্য জ্বালানী থেকে পূরণ করা সম্ভব।” লিগ্যাল ইকোনোমিস্ট এম. এস সিদ্দিকী বলেন, “সরকার ২০১০ সালে একটি নীতিমালা করেছিলেন, যেখানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে আবেদনকারীকে প্রয়োজনের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। বাস্তবে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার প্রেক্ষিতে এ খাতের ক্রমবর্ধমান বিকাশ অনস্বীকার্য। কিন্তু নিজেদের পায়ে কুঠারাঘাতের ন্যায় কয়লা-নির্ভর অপরিণামদর্শী বিদ্যুৎ প্রকল্পের আগ্রাসী বিকাশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশ আমাদের একটাই! এদশের মানুষের জীবন, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন টেকসই হবে না। কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্প সরকারের জাতীয় অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও প্যারিস চুক্তির পরিপন্থি। আমরা জানি সরকারের অঙ্গীকার আছে ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ১০ শতাংশ অথচ বর্তমানে এ হার ৪ শতাংশেরও কম। একইসাথে, সরকার অঙ্গীকার করেছিলো যে, ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নাবয়নযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অথচ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের দৃশ্যমান কোনো কৌশলগত উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।”

ড. জামান বলেন, “আত্মঘাতী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর মাদকীয় নির্ভরতা পরিহার করতে হবে। প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক সত্যকে উপেক্ষা করে ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান প্রভৃতি দেশের ও অর্থ-লগ্নিকারী সংস্থার আগ্রাসী বিনিয়োগ কৌশলের কাছে নতি শিকার করে এ জাতীয় প্রকল্পসমূহ গ্রহণ করার ফলে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যতম. বিপন্ন দেশের অবস্থান থেকে সবচেয়ে বেশি হারে দুষণকারী দেশ হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা বিব্রতকর। আমরা কোনোভাবেই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছি না, বিদ্যুৎ আমরা চাই, কিন্তু তা হতে হবে পরিবেশ ও প্রতিবেশবান্ধব, জীবনের জন্য নিরাপদ। সেজন্য চাই নবায়নযোগ্য জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎ। একইসাথে চলমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন স্থগিত করে আন্তর্জাতিকভাবে সুখ্যাতিসম্পন্ন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকল্প-ওয়ারি এবং অঞ্চলভিত্তিক কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে দুষণমুক্ত বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিকাশ করতে হবে, যার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে। ”

ব্রতীর নির্বাহী প্রধান শারমীন মুরশিদ বলেন, “ভুল নীতিমালা গ্রহণের ফলে পরিবেশ কীভাবে ধ্বংস হয়, তার উদাহরণ আর্সেনিকের দ্বারা ভূগর্ভের পানি। ঠিক তেমনি কয়লা নির্ভরতায় ভূ-পৃষ্ঠের পানি ধ্বংস হতে চলেছে। কয়লা নীতিমালা বিদ্যমান জাতীয় পানি নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক যা, আইনি জটিলতার সৃষ্টি করবে। একইসাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনেকগুলো সূচক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা চাই একটি সবুজ নীতিমালা হোক, যা সরকার তার প্রতিটি প্রকল্পের সাথে প্রকাশ করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে কয়লা ছাড়াই পরিবেশ বান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব। এখানে আশার কথা হচ্ছে, প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের মাত্র ১০ শতাংশের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর অধিকাংশই এখনও ঘোষণা কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে বা প্রাক-নির্মাণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। যেখানে, সৌর শক্তি ব্যবহার করেই ৫৩ গিগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের। তাই, প্রস্তাবিত ও চলমান কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসমূহের পরিবর্তে স্বল্প খরচে সৌর শক্তি বা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশ চাইলেই তার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

বাংলাদেশ একটি ক্রমঅগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে তার বিদ্যুতের চাহিদা অনস্বীকার্য, কিন্তু তাই বলে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত পদ্ধতি অবলম্বন করে তা অর্জিত হলে, সেটি হবে আত্মহননের শামিল। অভিজ্ঞতা থেকে এটা প্রমাণিত যে নবায়নযোগ্য জ্বালানী কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে অনেকাংশে সাশ্রয়ী। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গৃহস্থালিসহ ছোট পরিসরে নাবয়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, একইভাবে বৃহৎ পরিসরেও বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করবে, এটিই প্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে, আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উচিত বাংলাদেশের সবুজ নবানবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পসমূহে বিনিয়োগ করা।