ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি


» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ১১ মে ২০২০ - ০১:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন

আহার তৃপ্ত মানুষের মন সৌন্দর্যের মধুর কাব্যসুধায় নানাভাবে সিক্ত হয়।কিন্তু যে মানুষের ভালোভাবে অন্ন জোটে না,জঠরাগ্নি যার নিবৃত্ত হয়নি,বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনটুকু যার জীবনে অস্বীকৃত,সুন্দর তার কাছে তাৎপর্যই বহন করে না।জীবনে ক্ষুধাই যখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়,মানুষের জীবন থেকে প্রেম ও সৌন্দর্যের সূক্ষ্মতর বোধগুলোন গুরুত্ব হারিয়ে বিশুষ্ক পণ্যের মতোই তখন ঝরে পড়ে।

বিশ্বমহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে আজ জনজীবন হুমকির মুখে।রোনাজারি করছে কোটি কোটি বনি আদম।জীবন বাঁচানো যখন চ্যালেঞ্জের তখন সৌন্দর্য তাদের কাছে অর্থহীন। জীবন বাঁচাতে দু’মুটু অন্নই তাদের চাওয়া। সভ্যতার সূচনা থেকেই মানুষকে অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থানের জন্য নিরন্তর সংগ্রামে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।এ সংগ্রামে যখন মানুষ জয়ী হয়েছে তখনই তার মন প্রয়োজনের সীমাকে অতিক্রম করে প্রকৃতির মধ্যে রূপ,রং, রসের সন্ধান করেছে।

এভাবেই পূর্ণিমার চাঁদ মানুষের কাছে মনে হয়েছে প্রেম ও সৌন্দর্যের আধার হিসেবে।প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সাহিত্য,সংগীত ও চিত্রকলার প্রকৃতির বহুরূপে প্রত্যক্ষ করেছে।সুদূরের সৌন্দর্যকে সে সীমার স্বপ্নে বাঁধতে চেয়েছে।কিন্তু জীবনের জৈব প্রয়োজনকে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।শুধু বেঁচে থাকার জন্যে অন্ন সংগ্রহের তাড়নায় যে জীবন সর্বদা ব্যস্ত তার কাছে পূর্ণিমার চাঁদ কোনো সুন্দরের স্বপ্নকে বহন করে আনে না।নিয়ে আসে শুধু একটি বহু কাঙ্ক্ষিত ঝলসানো রুটির স্বপ্ন।মানুষের জীবন ও মনকে গড়ে তোলে পরিবেশ।বর্তমান পূঁজিবাদী সভ্যতার অর্থনৈতিক সংকট বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখ থেকে কেড়ে নিয়েছে ক্ষুধার অন্ন। জনজীবনে নেমে এসেছে দারিদ্রের দুর্বিসহ অভিশাপ।আর এই কঠিন জীবন সংগ্রামে জর্জরিত মানুষ স্বাভাবিক কারণেই সুন্দরকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

তার কাছে ক্ষুধার অন্নই সর্বাপেক্ষা সত্য হয়ে দেখা দেয়।প্রেম এবং সুন্দরের স্বপ্নতরী, কাব্যকূজন তখন তার কাছে মানুষের মৌলিক নিরর্থক মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়।ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৃথিবী গদ্যের মতোই নীরস ও কঠিন, কাব্যের ললিতবাণী তার কাছে ব্যর্থ পরিহাস মাত্র।প্রত্যেক মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অনুসঙ্গ হলো খাদ্য।যে মানুষ ক্ষুধার্ত তার কাছে সৌন্দর্যই প্রতিভাত হয় না।

মানুষের মৌলিক প্রয়োজন যখন অসম্ভব হয়ে উঠে তখন কবিতার রূপ- রস অলংকারকে ব্যক্তি জীবনে অবাস্তব ও অলীক বলে মনে হয়।তাই এই মহা দুর্যোগে দরিদ্র অসহায় মানুষের হাতে অন্ন তোলে দিতে এগিয়ে আসা উচিত সমাজরর বিত্তবানদের।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী