ক্ষতির সীসার উপস্থিতি বাজারে বিক্রিত ১১ ব্র্যান্ডের দুধে!


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯ - ০৬:৫৬:২২ অপরাহ্ন

১১ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের নমুনায় অতিরিক্ত মাত্রায় সীসার উপস্থিতি রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চে ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল সীসার উপস্থিতিই নয়, কয়েকটির মধ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ক্যাডমিয়ামও পাওয়া গেছে।

১১ কোম্পানি হলো আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, ইগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, ডেইরি ফ্রেশ, আল্ট্রা মিল্ক, আইরান, পিউরা, মিল্কভিটা ও সেইফ মিল্ক। পরে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয় হয়েছে তা ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে বলেছেন আদালত। এছাড়া পশু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ফার্মেসি অ্যানিমেল অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতে পারবে না কোনো খামারিও গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে পারবে না বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল শুনানিতে আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, দুধ নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে কিনা, কোনো রাজনীতি থাকলে আমাদের বলুন। দুধ রাজনীতির বিষয় নয়, জনস্বার্থের বিষয়। কেউ বলছেন, দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। আবার কেউ বলছেন ক্ষতিকর উপাদান নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দুধ পরীক্ষার গবেষণার ফল প্রকাশের পর একজন সেক্রেটারি তাকে নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু কেন? নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছেন। বিএসটিআই ৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছে। আর আমরা পাঁচটি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছি। আদালত বলেন, এসব প্যারামিটারের কথা বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখাবেন না। দুধে এরকম ক্ষতিকর উপাদানের বিষয় অন্য দেশে হলে জরিমানা করতে করতে শেষ করে ফেলতো।
আদেশের পর ফরিদুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পারমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআরবি’র ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করে। তরল দুধের ৫০টি নমুনা, ১১টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা ও ৬টি গোখাদ্য তিনটি সরকারি সংস্থার ল্যাব এবং তিনটি বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিলো।

এদিকে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন বলেন, গত মে মাসে আমরা ৩০৫টি কোম্পানির প্রক্রিয়াজাত দুধ ও পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করেছিলাম। মঙ্গলবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যে ১১টি কোম্পানির দুধে মাত্রাতিরিক্ত সীসা বা ক্যাডমিয়াম পেয়েছে আমাদের সে রিপোর্টে এসব কোম্পানির দুধে তা ছিলো না। তবে দু’টি কোম্পানির দুধ একেবারেই বিএসটিআই’র স্ট্যান্ডার্ডে ছিলো না। সে দু’টি কোম্পানিকে আমরা নোটিশ করেছি।