ক্যাসিনোর টাকায় দল চালাত সম্রাট: স্ত্রী শারমিন


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৯ - ০২:০৪:৩০ অপরাহ্ন

যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্যাসিনোর টাকা তিনি পরিবারে খরচ করতেন না, এই টাকা দিয়ে দল চালাতেন। তিনি বলেন, সম্রাটের অবৈধ সম্পদ কিংবা ব্যবসার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। সম্পদের দিক থেকে তার পারিবারিক অবস্থা আগে যেমন ছিল এখনো তাই রয়েছে।

গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে সম্রাটের বাসায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সম্রাটের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে ১৯ বছর। এক ছেলে রয়েছে ও বাইরে থাকে। তবে দুই বছর ধরে আমাদের মধ্যে সে রকম সম্পর্ক নেই। কিন্তু সে যে ক্যাসিনোর গডফাদার সেটা জানতাম না। আমি জানি সে যুবলীগের ভালো একজন নেতা।

শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, আসলে ওর সম্পদ বলতে কিছু নেই। ক্যাসিনো চালিয়ে যে টাকা অর্জন করত সেগুলো দিয়ে দল চালাত। আর যা থাকত সেই টাকা দিয়ে সিঙ্গাপুর বা অন্য কোথাও গিয়ে ক্যাসিনো খেলত। ও জনপ্রিয় ছিল। কারণ দল পালত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অভিযান আরো আগে চালালে ভালো হতো। স্বামীর চলাফেরাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রশংসা করে শারমিন বলেন, ওর নাম যেমন সম্রাট, সে শুরু থেকে আসলেই সম্রাট ছিল। আরো তো অনেকে আছে। কিন্তু ও আলাদা ছিল।

সিঙ্গাপুরে সম্রাট জুয়া খেলতে যেত এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ওর জুয়া খেলার নেশা ছিল। সিঙ্গাপুরে একাধিক নারীর সঙ্গে ছবির বিষয়ে বলেন, একাধিক নয়, একজন নারীর সঙ্গে ওখানে গেলে সময় কাটাত। আমাকে সিঙ্গাপুরে নিত না।

রাজনীতিতে সম্রাটের বড়ো ভাই আছে এমনটা বললেও তারা কারা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। র্যাবের হাতে গ্রেফতার খালেদকে চিনলেও জি কে শামীমকে চেনেন না বলে জানান শারমিন। স্ত্রী সামনে আসবে, রাজনীতি করবে এসব সম্রাট পছন্দ করতেন না জানিয়ে শারমিন চৌধুরী বলেন, ও চাইত না আমি মিডিয়াতে আসি।

সম্রাটের ঢাকায় কয়টি বাসা বা ফ্ল্যাট আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শান্তিনগর এবং মহাখালীর ডিওএইচএসে যে বাসায় থাকি এটা এবং এই এলাকারই ৩১ নম্বর রোডে একটি ফ্ল্যাটে ধীরে ধীরে টাকা দেওয়া শুরু করেছিল।

কাকরাইলের অফিসের বিষয়ে তিনি বলেন, পুরোটা দখল করা নয়। কিন্তু গেটে যেভাবে তল্লাশি হয় তাতে অন্যরা সবাই চলে গেছে। এতে অফিসটি খালি হয়ে গেছে। যে ফ্লোরটাতে ওর অফিস সেটা সম্রাটের।

অভিযান শুরুর পর কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে শারমিন চৌধুরী বলেন, আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। আমি মাসে একবার ওর কাকরাইলের অফিসে যেতাম। মাঝে-মধ্যে কথা হতো। কিন্তু সম্রাট ভাবত আমি বোকা, তাই সত্য বলে দেব। যে কারণে অভিযান শুরুর পর আর কিছু জানি না। পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশন দেখে কিছু কিছু জানতে পেরেছি। এরপর থেকে আমিও নজরদারিতে ছিলাম। সে ক্যাসিনো কিংবা অন্য কিছুতে জড়িত ছিল কিনা তাও আমরা জানতাম না।