কোনো অল্প বয়সী মেয়েকে ভুল প্রেমের থেকে ফিরিয়ে আনার উপায় কী?


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২০ - ০৮:২৮:১৪ অপরাহ্ন

অল্প বয়সী মেয়ে বলতে আপনি ঠিক কত বছর বয়স বলতে চাইছেন?? এগুলো একটু পরিষ্কার করে বললে ভালো হয়। কারণ বাড়ির লোকের কাছে তার মেয়ে বা ছেলেটি কোনদিনই বড় হয় না।কিন্তু তাই বলে এখন আপনি যদি ১৭-১৮ বছর বয়সী একটা মেয়েকে কচি খুকি সাজিয়ে রাখেন তো সেটা তো ঠিক নয়, তাই না। সবারই নিজের লাইফে একটা পার্সোনাল ডিসিশন নেয়ার অধিকার আছে। সেই ডিসিশনটা ঠিক না ভুল সেটা বিচার করার দায়িত্ব বাড়ির লোকের। কারণ তাদের কাছে জীবন এর অভিজ্ঞতা আছে।

যাই হোক,আসল উত্তরে আসা যাক। উত্তরের সুবিধার্তে আমি ধরে নিচ্ছি সে একজন নাবালিকা এবং সেইভাবেই উত্তরটা দিচ্ছি।

প্রথম উপায় : খুঁজে বার করুন মেয়েটি কিভাবে সেই ছেলেটির সাথে যোগাযোগ করে। এখনকার দিনে যোগাযোগ এর আসল মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। সবার প্রথমে ওটিকে নিয়ে নিন। চিন্তা করবেন না, আপনার মেয়ের কোনো বিপদ ও হবে না, আর সে হারাবেও না। কারণ আপনিই তাকে পড়ার টিউশন ব্যাচ এ নিয়ে যাবেন, নিয়ে আসবেন। ওখানে অনেক বন্ধুর মাধ্যমে কথা হতে পারে, তাই ওদিকটাও একটু খেয়াল রাখতে হবে। আর যদি ছেলেটি ওই টিউশন ব্যাচ এই পরে, তা হলে ওই ব্যাচ ছাড়িয়ে দিন। অন্য জায়গায় দিন। মোট কথা সমস্ত যোগাযোগ এর মাধ্যম গুলো খুঁজে খুঁজে সেগুলোকে বন্ধ করতে হবে।

আমি এক জায়গায় পড়েছিলাম (সম্ভবত লরির পিছনে লেখা ছিল) :

মেয়ের ভালো চাইলে মোবাইল দিও না,

ছেলের জীবন চাইলে বাইক দিও না।

এবার এরকম ও হতে পারে আপনি কিভাবে মেয়ে, ছেলেটির সাথে যোগাযোগ করছে সেটা জেনেও আপনি বন্ধ করতে পারছেন না। তখন –

দ্বিতীয় উপায় : আপনি মেয়েকে পাশে ডেকে বসিয়ে খুব আদর করে ঠান্ডা মাথায় ওকে বোঝান। কি জন্য আপনি ভাবছেন ছেলেটি ওর জন্য ভালো নয়,সেটা খুলে বলুন। ওর কথা শুনুন, সেই বুঝে পাল্টা যুক্তি দিন। কোনো মতেই আপনি রাগবেন না,যাই হয়ে যাক। সে যদি রেগে যায় , রাগুক, আপনি রাগবেন না। ও আবার ঠিক ফিরে আসবে আপনার কাছে। কারণ রাগলে কোনো মীমাংসা তো হবেই না, উল্টে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদিও প্রেমের ভুত শুধু বুঝিয়ে মাথা থেকে নামানো যায় না , যদি সে খুব বুদ্ধিমতী মেয়ে না হয় তা হলে এই বোঝানোতে কাজ হবে না। ও কিছুই বুঝবে না। প্রেমের ভুত একবার মাথায় চাপলে যতক্ষণ সামনের জনের থেকে কোনো আঘাত বা ছেঁকা না খাচ্ছে ততক্ষণ নামবে না।

এগুলো তো গেল সেই পুরোনো দিনের, ঠাকুরদা, ঠাকুমা এর সময়কার typical type এর উপায়। এবার আপনাকে এখনকার লেটেস্ট উপায় বলি :

প্রথমেই, কাওকে ভালোবাসাটা কোনো খারাপ জিনিস না।এটা আগে বুঝুন। সে কোনো চুরি বা ডাকাতি করে নি। আর ছেলেটিও রাস্তায় আপনার মেয়ের ওড়না বা হাত ধরে টানেনি। তারা দুজন দুজনকে ভালোবেসেছে। এতে অপরাধের কিছু নেই।

দ্বিতীয়, আমি বলছিনা সব ছেলে ভালো হয়, কিন্তু সব ছেলে খারাপ ও হয় না। মেয়েদের বাবা মার মধ্যে এখন এই জিনিসটা আমি দেখি। তার মেয়েকে কোনো ছেলে ভালোবাসলেই সেই ছেলেটি খারাপ। ছেলেটির সম্পর্কে কোনো খোঁজ খবর না নিয়েই, তারা ছেলেটির একটি খারাপ character certificate দিয়ে দেয়।আগে ছেলেটার সম্মন্ধে সব খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন ছেলেটি কেমন। একদিন দরকার পড়লে তার সাথে দেখা করুন। তার ক্যারিয়ার প্লান সম্পর্কে জানুন, সে কি নিয়ে পড়ছে, তার ভবিষ্যৎ কি আছে সেটা দেখুন, জব করলে সেখানে খোঁজ খবর নিন, অন্যদের থেকে তার চরিত্র সম্পর্কে খোঁজ নিন। কারণ আপনি কখনোই চাইবেন না আপনার মেয়ে খারাপ থাকুক। তারপরে সব যদি ঠিক থাকে আর ছেলের বাবা মা যদি রাজি থাকে তাহলে ভবিষ্যতে চার হাত এক করে দিতে অসুবিধা কি?? আর যদি সত্যি খারাপ হয়, তাহলে সেই খারাপ দিক গুলো মেয়েকে বোঝান। যুক্তি দিয়ে বোঝালে, আর ছেলেটি সত্যিই যদি খারাপ হয়, তো সেই খারাপ দিকগুলো বোঝালে সে অবশ্যই বুঝবে। অন্তত আপনার কথা সে ৫বার ভেবে দেখবে।

আমার মতে ছেলে বা মেয়ে উভয়ের জন্যই ভালোবাসাটা কোনো খারাপ জিনিস না। কিন্তু কারোর সম্পর্কে কিছু না জেনে , তার সম্পর্কে একটা খারাপ judgement pass করাটা খারাপ। দিন পাল্টেছে, নতুন করে ভাবতে শিখুন।

আর যদি আপনি বন্ধু/বান্ধবী হন, তাহলে আপনার বান্ধবীর ভালো করাটা আপনার কর্তব্য। তাই অবশ্যই তাকে বোঝান, তাই বলে খুব বেশি বার নয়, ২-৩ বার। এতে সে বুঝলে ভালো, না হলে ছেড়ে দিন। কারণ বেশি কিছু করতে গেলে আপনি খামোখা আপনাদের বন্ধুত্বটাই নষ্ট করবেন। আর কিছুই হবে না। আপনার জন্য সে ওই ছেলেটিকে ছাড়বে না , যতক্ষণ ছেঁকা না খাচ্ছে। আর নিজের ভালো পাগলেও বোঝে, তাই ওনার হালে ওনাকে ছেড়ে দিন।

আর নিজের মনে মনে একটা শ্লোক আওড়ান :