উত্তরা নিউজ উত্তরা নিউজ
অনলাইন রিপোর্ট


`কেবল ধর্মই পবিত্রাত্মা সমৃদ্ধ মানুষ তৈরী করতে পারে’






গাজী নুরুল আহাদ: আমরা আল্লাহর সৃষ্ট এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের চক্ষুযুগল দিয়ে অবলীলায় অবলোকন করি। এতে আমরা আপ্লুত, উদ্বেলিত, পুলকিত ও শিহরিত হই। আমরা সাগরের কলতান শুনি, সাগর তীরে বিক্ষুব্ধ তরঙ্গের আছড়ে পড়া উপভোগ করি, আকাশের সুনীল ও তারার ঝিলিমিলি দেখি, পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখি, তাদের কিচির-মিচির ধ্বনিতে তন্ময় হই, ফুলের সৌন্দর্য লুটি। এরকম আল্লাহর আরো হাজারো লক্ষ কোটি সৃষ্টিরাজি আমাদের আত্মার আনন্দ লাভের অন্যতম উৎস। কিন্তু এ সৌন্দর্যের আবেদনটুকু, ম্যাসেজটুকু আমরা হৃদয়ে যথাযথভাবে ধারণ বা লালন করতে পারিনা বিধায় আজ মানব সভ্যতা এত দঙ্গলময়। সৌন্দর্য শুধু চর্মচোখে অবলোকন করলেই হয়না, হৃদয়কেও যা অবলোকন করলাম তার মত সুন্দর করে সাজাতে হয়। চোখের দৃষ্টি সারাদিন সুন্দরের মাঝে হারিয়ে যাবার পরও আমরা হৃদয়কে সুন্দর করার অনুশীলন করিনা বলে আমাদের অন্তরে এতো এতো হিংসা, ঘৃণা, ক্ষোভ, অহমিকা, লোভ, লালসা, অসৎ চিন্তা, অসৎ কামনা-বাসনা ইত্যাদি জায়গা করে নেয়। মানুষ তার বাহ্যিকতাকে যতটুকু সুন্দর করা যায় তার শতভাগই করার চেষ্টা করছে, কিন্তু অন্তরের সৌন্দর্য বা আত্মার বিশুদ্ধিকরণের দিকে দৃকপাত করছেনা।

পৃথিবীতে আজ পবিত্রাত্না সমৃদ্ধ মানুষের যারপরনাই অভাব। অথচ একমাত্র ধর্মই পারে পৃথিবীতে পবিত্রাত্মা সমৃদ্ধ মানুষ তৈরী করতে। কিন্তু সেই ধর্মের বিধি-বিধান ও ধর্ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতাকে আজ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে একেবারেই উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলতঃ মানুষের পাশব সত্তা তার মানব সত্তা থেকে আজ বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আর তাতেই সর্বত্র যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি, বিশৃঙ্ক্ষলা, দেশ দখল ও পরস্বহরণের মত ঘটনাগুলো ঘটছে অবলীলায়। মানুষ বর্তমানে জাগতিক উন্নতির চরম সীমা অতিক্রম করে গেছে সম্ভবত, কিন্তু আত্মার হাহাকার আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। চারিদিকে এতো এতো সুখের পসরা ডালি সাজিয়ে আছে- তবুও কোথাও যেন সুখ নেই! আত্মার প্রশান্তি বলে যে স্বর্গীয় সুধা আছে তা মানবাত্মা অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরছে। মানুষের পাশব সত্তাকে/নফসানিয়্যাতকে লাগামবদ্ধ করতঃ আত্মিক উন্নতির জন্য যে ধর্ম নামক মেশিনটি আল্লাহ প্রবর্তন করেছেন তাকে অপাঙতেয় করে রাখা হয়েছে। মানুষের আত্না পরিচর্যার উপকরণ থেকে ধর্মকে সমূলে উৎখাত করার সকল বন্দোবস্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ধর্মকে আফিমের সাথে তুলনা করে মানুষকে সত্যিকারের আফিমের (পাপাচার, কামাচার, ব্যভিচার, অনাচার, পানাচার- সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য) নেশায় বুঁদ করে রাখা হয়েছে। ফলে মানুষ নর্ম্, ইথিকস্ ইত্যাদি জানছেনা ও মানছেনা। সর্বত্র নীতি-নৈতিকতার ধপাস পতন! “জোর যার মুল্লুক তার”- এই বেইনসাফী ও অন্যায্যতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে তাবৎ বিশ্ব ব্যবস্থা। কেবল দুর্নীতিবাজ, জোচ্চর আর বলদর্পীরাই (সারভাইবল অব দ্যা ফিটেস্ট- এরাই বুঝি যোগ্যতম!) এখানে টিকে থাকবে! এভাবেইতো মানুষ তাকে সৃষ্টির মূল স্পিরিটকে ভুলে গিয়ে নিজেদের পরকালীন জীবনকে বৃথা করে দিচ্ছে।