কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; অপরাধ অনুযায়ী বিচার হবে


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০১৯ - ০৭:৪৫:১২ অপরাহ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যেই দুর্নীতি করবে, যেই আইন অমান্য করবে, তার শাস্তি হবে, অপরাধ অনুযায়ী বিচার হবে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে অধীনস্থ দপ্তরগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব সময় দুর্নীতি ছিল। ভবিষ্যতে যাতে দুর্নীতি কমে তার একটা পরিকল্পনা সরকারের আছে। আমরা সে কাজটি করে যাচ্ছি। একটা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যে কাউকে তলব করছে। যেখানে দুর্নীতির আভাস পাই কিংবা যেকোনো দুর্নীতির কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, আমাদের বিভাগীয় প্রসিডিং সেখানে করা হচ্ছে। আমাদের যা যা করণীয়, সব করছি।

সামনে চ্যালেঞ্জ কী, জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে তা আমরা চিন্তা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই প্রতিনিয়ত চিন্তা করছে, পরিকল্পনা করছে। কী ধরনের দুর্নীতি সারা বিশ্বে হয়, সেগুলোর তথ্য তারা সংগ্রহ করছে। সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে, সারা বিশ্বের সঙ্গে একটা যোগাযোগ রক্ষা করে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছি। আমরা আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। যারা এ ধরনের ক্রাইম করে, তারা যথেষ্ট মেধা নিয়ে ক্রাইম করে। ইদানিং দেখছি সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য আমরা সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে শক্তিশালী করছি। সাইবার ক্রাইম দমনের জন্য আমাদের পুলিশের একটা ইউনিট গঠন করেছি। আমাদের এনটিএমসিকে শক্তিশালী করছি।’

তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সক্ষমতা দেখাচ্ছে, অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সব ধরনের খবরকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে। শ্রীলঙ্কায় একটা ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য আমরা সব ধরনের সমন্বয়ের ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সবাই সজাগ ছিলাম বলে ঘটনা ঘটেনি।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল এবং পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং এনটিএমসির প্রধানরা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। আমাদের নির্বাচনে যে টার্গেটগুলো ছিল তা বাস্তবায়নে কাজ করব। আমাদের সফলতার হার ৯৭ শতাংশের ওপরে। কাজেই শতভাগ তেমন কিছু নয়।

নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ, এ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা একটা ব্যাপক কাজ। সব ধরনের নিরাপত্তার জন্য আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কাজ করছে। আমরা বহু চ্যালেঞ্জ এরইমধ্যে মোকাবিলা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা নিরাপত্তা বিভাগকে তাদের সক্ষমতা, দক্ষতা, তাদের যা যা প্রয়োজন তাই ব্যবস্থা করছি। প্রধানমন্ত্রী তার ব্যবস্থা করেছেন বলেই আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, ভবিষ্যতে পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, এনটিএমসি, অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সবাই তাদের কাজ সঠিকভাবে করছে। সেজন্যই আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি।’