কৃষিমন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উপকৃত হবেন ফলচাষিরা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২০ - ১১:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন

আম, লিচু, কাঁঠাল ও আনারস বাজারজাতকরণে কৃষিমন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উপকৃত হবেন ফলচাষিরা। করোনার কারণে তাদের মধ্যে যে শঙ্কা কাজ করছে তাও দূর হয়ে যাবে। ফলচাষিরা বলছেন, কৃষিমন্ত্রী সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে যা বলেছেন, তাতে আশাবাদী তারা। কৃষিমন্ত্রী হাওরের ধান সাধারণ মানুষের গোলায় তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এবার ফলচাষিদের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতেও তিনি সফল হবেন। মন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সারাদেশের মানুষ ফল খেতে পারবেন। করোনার এই সময়ে শরীরে রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ফল অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলচাষিদের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, হাওর অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকদের মতো আম ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করাসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পরিবহনের সময় যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেননি। যা বিক্রি করেছেন তার ভালো দামও পাননি তারা। ইতোমধ্যে আম, লিচু, আনারস ও কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল বাজারে আসতে শুরু করেছে। এসব মৌসুমি ফল সঠিকভাবে বাজারজাত না করা গেলে চাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ মানুষ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এসব কথা বিবেচনা করে ১০টি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফল বাজারজাত প্রসঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী সম্প্রতি এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, ‘ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হবে না।’ তিনি বলেন, এই সংকটকালে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, দেশে এখন নিরাপদ রফতানিযোগ্য প্রচুর আম উৎপাদন হচ্ছে। বিদেশে এর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। করোনা কারণে ফলের চাহিদা বাড়ায় তৈরি হয়েছে নতুন বাজার। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগোতে হবে। আম বাজারজাতকরণে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের ফলচাষিরা উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের বাজারও অনেক বড়। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত আম সরবরাহ করতে পারলেই দেশের বাজারেই চাষিরা লাভবান হবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি হাসান আল সাদী পলাশ বলেন, এবার আমগাছ পরিচর্যার সময় থেকেই করোনার প্রভাব শুরু হয়েছে। করোনার কারণে দেশের অন্যান্য কৃষিপণ্য যখন গড়াগড়ি খাচ্ছে তখন থেকেই আমচাষিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে বাগানের ওপর অতিরিক্ত যত্ন এবং অর্থলগ্নিকরা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। আমার বাগানেও একই অবস্থা। তবে কৃষিমন্ত্রী সম্প্রতি ফল বাজারজাতকরণের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হলে আমরা ভীষণভাবে উপকৃত হবো। আগামীতে আমচাষে কৃষকের আরও আগ্রহ বাড়বে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়তদার বাহরাম আলী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকার ইচ্ছা করলে সবই পারে। এবার হাওরবাসী ধান আতঙ্কে ছিল সরকারই তাদের উদ্ধার করেছে। এবার আম, লিচু, কাঁঠাল ও আনারসের ক্ষেত্রে যদি কৃষি বিভাগ হাওরের মতো ঝাপিয়ে পড়ে, পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারে, সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারি আনতে পারে, তাহলে আমরা যারা ব্যবসায়ী তারাও লাভবান হবো। ফলচাষিরা ভালো পয়সাও পাবেন।

এ বছর এক লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার টন। রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নাটোর, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে অধিকাংশ আমের ফলন হয়। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন দুই লাখ ৩২ হাজার টন। অধিকাংশ লিচুর ফলন হয় রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, গাজীপুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায়। কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন ১৮ লাখ ৮৯ হাজার টন। টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, আনারসের আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ও সম্ভাব্য উৎপাদন চার লাখ ৯৭ হাজার টন। আনারসের সিংহভাগ উৎপাদন হয় টাঙ্গাইলে।

 

সূত্র: জাগো নিউজ