কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত


» মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান | উত্তরা নিউজ, স্টাফ রিপোর্টার | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০১৯ - ০৭:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন

প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আজ বুধবার দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে শোলাকিয়ার ঈদ-উল-ফিতরের জামাতে লাখো মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন।
মুসল্লিদের কেউবা ছাতা নিয়ে আবার কেউ পলিথিন মাথায় দিয়ে ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত হয়। বুধবার সকাল থেকে থেমে-থেমে বৃষ্টি হলেও সকাল ৯টার দিকে শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এ বৃষ্টির মধ্যেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঈদগাহ ময়দানে আসা থেমে থাকেনি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ি শোলাকিয়ায় ১৯২তম ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ১০ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে ২৫ মিনিট পরে অর্থাৎ সকাল ১০ টা ২৫ মিনিটে ঈদের জামাত শুরু হয়।
শোলাকিয়া ঈদগাহের রীতি অনুযায়ী জামাত শুরুর ১৫ মিনিট, ৫ মিনিট ও সবশেষ এক মিনিট আগে বন্দুকের গুলি ছুড়ে ঈদের জামাতের চূড়ান্ত প্রস্তুতি জানান দেয়া হয়। পরে ১০ টা ২৫ মিনিটে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শুরু হয়।
এই ঈদ-জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদ-উল-ফিতরের জামাত উপলক্ষে এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এবছরও দূরের মুসল্লি¬দের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে শোলাকিয়ায় আসার জন্য ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্রবস্থা করা হয়।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ বিশিষ্টজনেরা এ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তিনি বলেন,২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরুর কিছুক্ষণ আগে ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়।
তিনি জানান,চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় র‌্যাব ও পুলিশের এক হাজারেরও বেশি সদস্যের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।
উল্লেখ্য, ঈদগাহের প্রতিটি প্রবেশ পথসহ মাঠের চারপাশে বসানো হয় ৫০টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মাঠে প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসলি¬দের দেহ তল্লাশি করা হয়। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ছিলো ড্রোন ক্যামেরার নজরদারি।
১৮২৮ সালে ঈদের জামাতে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।
ঈশাখাঁর ১৬তম বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁন ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহটি ওয়াকফ করেন। এরও প্রায় দু’শ’ বছর আগে থেকে শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।