কিউলেক্স মশা মোকাবিলায় পিছিয়ে ডিএসসিসি


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৯ - ০১:০৪:৪৩ অপরাহ্ন

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করলে নড়েচড়ে বসে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। তবে রাজধানীতে বর্তমানে এডিস মশা তেমন একটা না থাকলেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে কিউলেক্স মশা। রাতদিন এসব মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসী।

কিউলেক্স মশা ঠেকাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) চলছে ধীরগতিতে।

জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কায় ‘মশক নিধনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু করেছে ডিএনসিসি। পাশাপাশি এ অভিযানের আওতায় গত ২৪ নভেম্বর থেকে ডিএনসিসির সব ওয়ার্ডে দশ দিনব্যাপী কিউলেক্স মশার ৬২৬ প্রজনন স্থলে (হটস্পট) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও লার্ভা ধ্বংস করা হচ্ছে।

ইতিপূর্বে কীটতত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২ কীটতত্ববিদের সমন্বয়ে পরিচালিত এক সমীক্ষায় ডিএনসিসির মোট ৬২৬ স্থানে কিউলেক্স মশার হটস্পট চিহ্নিত হয়।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমবিষয়ক পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে তারা। মশা নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এ পর্ষদ গঠিত হয়েছে। প্রতি তিন মাস পর পর পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

‘মশক নিধনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেছিলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যে চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় কিউলেক্স মশা নিধনেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কীটতত্ববিদদের পরামর্শে মশক নিধনে ইতোমধ্যে বেশকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এর ফলে মশক নিধন কার্যক্রমে ডিএনসিসির গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।

পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিশেষ মৌসুম বা নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুবিরোধী তৎপরতা দেখালে হবে না বরং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম জোরদার রাখতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রুটিন মশক নিয়ন্ত্রণে ৪০০ জনবল রয়েছে তদের। নতুন করে কিছু জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হচ্ছে। সে জনবল এলে কাজের গতি বাড়বে। এছাড়া নতুন করে ২৫০ ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করবে ডিএসসিসি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ বলেন, কিউলেক্স মশা থাকতে পারে এমন জায়গা চিহ্নিত করে লার্ভিসাইড ওষুধ প্রয়োগ করছি। ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহে দুটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নেই পর্যাপ্ত লোকবল। পাশাপাশি ফগার ও হুইল ব্যারোসহ অন্যান্য মেশিন- যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় মশা নিধন পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো কাঠামোর মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়েই সংস্থা দুটি তাদের দ্বিগুণ এলাকায় নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে। এ কারণে প্রতিটি সেবা-সংক্রান্ত কার্যক্রমেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থা দুটিকে।