কালীগঞ্জে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্মবিরতি দিয়ে মানববন্ধন; দূর্ভোগে রোগীরা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ - ০৫:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রা ভাঙচুরের ঘটনায় দেড় ঘন্টা কর্মবিরতি রেখে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে নয়টা হতে এগারোটা পর্যন্ত হাসপাতালের প্রবেশ পথের সামনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মস্থল এবং রোগীদের সেবা প্রদানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের দাবিতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

হাসপাতাল থেকে সুচিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা নেওয়ার পথে রোগী মারা যাওয়ায় রোগীর স্বজনরা মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেড় ঘন্টা কর্মবিরতির মাধ্যমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু জরুরি বিভাগ চালু রেখে অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরা মানববন্ধনে অংশ নেয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েন সেবা নিতে আসা রোগীরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকদের হাসপাতালে না পেয়ে অনেক রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে হাসপাতাল হতে চলে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার নামে চলছে রমরমা টেস্ট বানিজ্য, টাকা ছাড়া চিকিৎসা পাওয়া যায় না, সামান্য কিছু হলেই চিকিৎসা না দিয়ে শুধু ঢাকা রেফার্ড করে। চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে এভাবে মানববন্ধন করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত।

এদিকে হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সঞ্জয় দত্ত।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশকে সভাপতি ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জুবের আলমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, বুকের ব্যথা উঠলে মো. মোবারক হোসেন নামে এক যুবককে তার স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর জরুরি বিভাগে মঙ্গলবার সকালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন ওই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তার ইসিজি করান। ইসিজির রিপোর্টের পর তাকে কিছু ঔষধ দেন । এর পর রোগীর স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যান। ঘন্টাখানিক পর ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রোগীকে জরুরি বিভাগের বেডে বসিয়ে গ্যাস স্প্রে দেন। হঠাৎ মোবারক বেড থেকে নিচে পড়ে যায় এবং তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে যাকে এবং রক্ত বমি করে । চিকিৎসক তাকে দ্রুত গাজীপুর হাসপাতালে নেয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের অনুরোধ করে।

পরে স্বজনরা বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে ঢাকা হাসপাতালে নেয়ার পথে পূবাইল থানার মীরেরবাজার পৌছলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে তালটিয়া এলাকায় করমতলা খ্রিষ্টান হাসপাতালে স্বজনরা নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোবারক মারা গেছেন বলে জানান। নিহত মো. মোবারক হোসেন (৩০) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বড়নগর গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে।

পরে দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে মোবারকের স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো গিয়ে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর চালায়। হাসপাতালে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ।

ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক। তিনি বলেন, রাতে বড়নগর এলাকায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকারী কাউকে পাওয়া যায়নি।