কালীগঞ্জে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে ইউএনও শিবলী সাদিক


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ - ০৭:১১:০৫ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ৩০ বছর ধরে ভিক্ষা করছেন ইয়াকুব আলী। তার দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে পলাশ জনতা জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আর ছোট ছেলে আব্দুল কাদের রিকশা চালায়। তারা তার বাবা-মাকে দেখভাল করে না। জীবন বাঁচাতে মানুষের কাছে হাতপাতা ছাড়া কোনো মাধ্যম নেই ইয়াকুবের । ভাঙ্গা ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন । তার বাড়ি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নারগানা গ্রামে। চলার মতো কিছু করে দিলে সে ভিক্ষা করবেন না।
একই গ্রামের আরেক ভিক্ষুক মো. মস্তফা। বয়স তার আশি বছর। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে রিকশা চালায়। বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। সেই ছেলে তাদের কোনো খোঁজখবর রাখে না। ছোট ছেলে মোতাহার হোসেন গাছ থেকে পড়ে পঙ্গু হয়ে গেছে। কিছু অর্থ দিয়ে ওই ছোট ছেলেকে একটি চা-পানের দোকান করে দিলে তার সংসারে কোন অভাব থাকবে না। সে ভিক্ষা করা ছেড়ে দেবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার লক্ষে ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক তার কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় বিশজন নারী-পুরুষ ভিক্ষুকদের ইন্টারভিউ নেন। কেন তারা ভিক্ষা করে, কি করলে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিবে, ভিক্ষুকদের নানা সমস্যার কথা খুব মনোযোগ সহকারে শুনেন ইউএনও মো. শিবলী সাদিক।
কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করার জন্য তাদের সমস্যা ও সমাধান কল্পের জন্য ইন্টারভিউ নেয়া হচ্ছে। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করতে সরকার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। এছাড়া উপজেলায় কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানেরর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, তারা আন্তরিক এ বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতা করবেন। তাই ভিক্ষুকদের ডেকে এনে তাদের সমস্যার কথা শুনচ্ছি এবং সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তাদের আসা-যাওয়ার যাতায়াত ভাড়াও আমরা দিয়ে দিচ্ছি।