কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন


» মোহাম্মদ আব্দুর রহমান | কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি | | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ০৪:৪৪:২১ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের কমিটি নিয়ে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করায় দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে। পাল্টাপাল্টি কমিটি ফেসবুকে পোষ্টের পর তাদের উভয়ের মধ্যে যে মিল নেই সেই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তাদের পোষ্ট দুটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

নাগরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম আলী আহমেদ ৪টি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নাম দলীয় প্যাডে লিখে সেই কমিটি সোমবার রাতে তার আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট দেন। ঘন্টা দেড়েক পর সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার ওই ৪টি ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে সভাপতির পোস্ট দেয়ার ৩টি কমিটির সাধারন সম্পাদকদের নাম পরিবর্তন করে দলীয় প্যাডে নিজের  স্বাক্ষরিত কমিটি অনুমোদিত লেখে তা তিনি ফেসবুকে পোষ্ট দেয়। তাদের উভয়ের পোষ্টের পর দলীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেকে নেতিবাচক কমেন্টস করতে থাকে। যা দলীয় ভাবমূর্তির ক্ষুন্ন হওয়ার সামিল বলে নেতাকর্মীরা মতামত দেয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের জ্ঞান নিয়ে অনেকে সন্দিহান বলে বিভিন্নজন কমেন্টস করতে থাকেন।

নাগরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষরিত পাল্টাপাল্টি কমিটির তালিকা ফেসবুক থেকে সংরক্ষণ করে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পরিমল চন্দ্র ঘোষ তার আইডি থেকে উভয় কমিটি পোষ্ট দেন। সেই পোষ্টে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক বরুণ শেখ কমেন্টে লেখেন, ফাজলামোর একটা সীমা থাকার দরকার আছে, নাগরীতে তাও টপকিয়ে গেছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে সভাপতি/সম্পাদক এর জ্ঞান নিয়ে আমি সন্দিহান। তার এ কমেন্টের উত্তরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পরিমল চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই। সভাপতি আলী আহমেদ ভাই একজন বিচক্ষণ ও দক্ষ সংগঠক হয়ে তিনি কিভাবে একক স্বাক্ষরে কমিটি পোষ্ট করলেন। আর তা দেখে সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিমও তার একক স্বাক্ষরে আরেকটি কমিটি পোষ্ট করলো। নাগরী আওয়ামী লীগের এই বিশৃংখলা মেনে নেয়া যায় না।

নাগরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আলী আহমেদ তার অনুমোদিত কমিটিই সঠিক কমিটি বলে তিনি অনড়। তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্মেলন হয়েছে। সভাপতি হিসেবে আমি যেই কমিটি অনুমোদন দিয়েছি সেটাই সঠিক। সাধারন সম্পাদক আমার সাথে যোগাযোগ না করে তার মনগড়া কমিটি ঘোষণা করেছেন। এদিকে সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদারের দাবি তিনি যেই কমিটি অনমোদন দিয়েছেন তা দলীয় নেতৃবৃন্দদের পরামর্শে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার অনুমোদিত কমিটিই চূড়ান্ত। ইউনিয়ন সভাপতির সাথে কথা বলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতি নির্ধারক নেতৃবৃন্দদের পরামর্শে আমি কমিটি গঠন করেছি।

৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে সাধারন সম্পাদক পদে মোমেন ভূইয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলুল হক ফজু ও মো. দবির উদ্দিনকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক করে ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আহমেদ এককভাবে ¯^াক্ষর করে কমিটি অনুমোদন দেয়। তার এই কমিটির অনুমোদনের ঘন্টা দেড়েক পর সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার সভাপতির দেয়া ৪,৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদকের নাম পরিবর্তন করে। নতুন করে মো. সিরাজউদ্দিন কে ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আক্তার হোসেন ভূইয়াকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও নকুল কুমার বিশ্বাসকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে সেই কমিটি একক স্বাক্ষরে অনুমোদন দেয়। পরে সেই কমিটির তালিকা ফেসবুকে পোষ্ট দেয়। এর পর থেকে সভাপতি ও সম্পাদকের পোষ্ট মুর্হুতে ভাইরাল হয়ে যায়।