কাপ্তাই লেক ভ্রমণ যে কারণে বিপজ্জনক!


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৭:২৪:০৩ অপরাহ্ন

দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই লেকে নৌ ভ্রমণ ক্রমশঃ বিপজ্জনক হয়েছে উঠছে। শুক্রবার একদিনেই কাপ্তাই লেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত বোটডুবির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ছয় জন। এদের মধ্যে কর্ণফুলী নদীতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন।

শনিবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ দুইজন উদ্ধার না হওয়ায় কর্ণফুলীতে তাদেরও সলিল সমাধি ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত, চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে লেক ভ্রমণে গিয়েই পর্যটকদের এভাবে ডুবে মরার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে প্রতিদিন ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে হাজার হাজার পর্যটক কাপ্তাই লেক ভ্রমণে গেলেও পর্যটকদের নিরপত্তায় বা নৌকাডুবিতে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা নেই কর্তৃপক্ষের।

রাঙ্গামাটিতে ফায়ার সার্ভিস বিভাগ থাকলেও ডুবুরি নেই তাদের। এই ধরনের নৌকাডুবির ঘটনায় নির্ভর করতে হয় নৌবাহিনীর ডুবুরির ওপর। শুক্রবার দুপুরে কাপ্তাই লেকে নৌকা ডুবির ঘটনায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে পেসিফিক জিন্স গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাঙ্গামাটিতে পিকনিক করতে যায়। তারা রাঙ্গামাটি সদর থেকে দুটি ইঞ্জিন চালিত বোট ভাড়া করে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৫০ জন শুভলং ঝরনা দেখতে রওনা দেয়।

দুই বোটের মধ্যে একটিতে ছিলেন ২০ জন এবং অপরটিতে ৩০ জন। লেকের মাঝপথে দুই বোটের যাত্রীরা একটি থেকে অপরটিতে কামরাঙা ছোঁড়াছুড়ি করছিলো। এই অপর বোট থেকে ছুঁড়ে মারা কামরাঙা ধরার জন্য সবাই একসাথে বোটের একাপাশে চলে আসলে বোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ডুবে যাওয়া বোটে নারী ও শিশুসহ প্রায় ২০ জন যাত্রী ছিলো। যারা সাঁতার জানে তারা সাঁতার কেটে পাশের বোটে উঠতে পারলেও অন্যরা ডুবে যায়।

পাশের বোট থেকে করা এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায় ডুবে যাওয়ার বোটের যাত্রীরা যখন বাঁচার জন্য আত্মরক্ষার চেষ্ঠা করছিলো পাশের বোটের যাত্রীরাও তাদের উদ্ধারে সাহস পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘ সময় পর আশেপাশের কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত বোট এসে অনেককে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মৃত্যু হয় নারী ও শিশুসহ ছয়জনের। ডুবে যাওয়া বোটে ছিলোনা কোন লাইফ জ্যাকেট এবং পানিতে ভেসে থাকার পর্যাপ্ত কোনো উপকরণ।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসে কোনো ডুবুরি নেই। বোটডুবির ঘটনা ঘটলে কাপ্তাই নৌবাহিনীর ডুবুরিদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাইয়ের দুরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এই দুরত্ব থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে সময় লেগে যায়।

শুক্রবার বোট ডুবিতে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়া, কাপ্তাই লেকে চলাচলকারী প্রতিটি বোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং পর্যটকদের ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বোটের ছাদ ব্যবহতার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে, একই দিন কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে ইসকনের পর্যটকবাহী এক ইঞ্জিন বোট ডুবির ঘটনায় আরো একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহাম্মেদ রাসেল জানান, হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের ১২৭ সদস্য তীর্থ ভ্রমণে কাপ্তাই আসেন। তারা কর্ণফুলী নদীতে নৌভ্রমণ করার সময় তাদের বহনকারী ইঞ্জিন বোটটি কর্ণফুলী নদীর কয়লার ডিপু এলাকায় ডুবে যায়।

এই ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো দুইজন। কাপ্তাই নৌবাহনী ঘাঁটি থেকে ডুবুরিদল এসে এই নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চালায়।