শামীম শিকদার | কাপাসিয়া, গাজীপুর শামীম শিকদার | কাপাসিয়া, গাজীপুর


কাপাসিয়া-ভাকোয়াদী সড়ক এখন গলার কাঁটা






গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে বরুন হয়ে ভাকোয়াদী বাজার পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক এখন যেন মানুষের গলার কাঁটা। ছোট বড় গর্তে পিচ উঠে সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি সংস্কার না করায় সড়কের এ বেহাল দশায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে জনসাধারণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি খনাখন্দে ভরা। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে পড়েছে পাশের পুকুর-ডোবায়। এরমধ্যে খোদাদিয়া ও কোটবাজালিয়া এলাকার অবস্থা বেশি খারাপ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন ও চাঁদপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৫ গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা চলাচল করে। এছাড়া কমপক্ষে ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষর্থীরা এ পথেই যাতায়াত করে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটির চার কিলোমিটার পড়েছে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নে বাকি চার কিলোমিটার পড়েছে চাঁদপুর ইউনিয়নে।

কাপাসিয়া-ভাকোয়াদী সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা চালক সোলাইমান হোসেন বলেন, বেহাল এ সড়কে গাড়ি চালালে প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় অটোরিকশার রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার কারণে যাত্রীও এখন কম পাওয়া যায়। এখন গড়ি চালিয়ে নিজের সংসারও ঠিকমতো চলে না।
কোটবাজালিয়া গ্রামের কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী নাঈম সর্দার বলেন, প্রতিদিন আমাকে দোকানে যেতে হয়। যানবাহনের ঝাঁকুনিতে শরীর ব্যাথা হয়ে যায়। সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে ইচ্ছা করে না আর। এছাড়া সড়ক খারাপ হওয়ায় অটোরিকশা চালকরা প্রায় সময় বেশি ভাড়া দাবি করে।

কোটবাজালিয়া বাজারের পিকআপ ভ্যানের চালক খেরশেদ অলম ও কাশেম বলেন, এ সড়ক দিয়ে বর্তমানে গড়ি চলাচলের কোন অবস্থা নেই। যেখানে ১০ মিনিট লাগার কথা সেখানে সময় লাগে ৩০ মিনিট। এ ছাড়া খনাখন্দের কারণে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ভাকোয়াদী এলাকার বাসিন্দা কলেজ ছাত্র আসিফ অহমেদ বলেন, আমি নিয়মিত কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজে ক্লাস করতে যাই। সড়কের দুরবস্থার কারণে একদিন ক্লাস করতে গেলে পরদিন আর যেতে ইচ্ছে করে না।

গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল বারেক বলেন, সড়কটির টেন্ডার হয়েছে। শিগগিরই মেরামত করা হবে।