শামীম শিকদার | কাপাসিয়া, গাজীপুর শামীম শিকদার | কাপাসিয়া, গাজীপুর


কাপাসিয়ার লোহাদী গ্রাম হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্প

লৌহ খনি থেকে লোহাদী গ্রাম




গ্রামের নাম লোহাদী। লৌহ খনি থেকে এ নামকরণ করা হয়েছে বলে জানান লোহাদী গ্রামের বাসিন্দারা। বাংলাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতিবিজয়ীত গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের ঢাকা কিশোরগঞ্জ সড়কের দুপাশ মিলে লোহাদী গ্রাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা কাপাসিয়া সড়কের নরসিংহপুর বাসস্ট্যন্ড থেকে পশ্চিমে লোহাদী গ্রাম ঘেঁষে একটি সরু রাস্তা বেলাসী গ্রামের দিকে চলে গেছে। কিছু দূর গেলে সড়কের ডান পাশে দেখা যায় ধান ক্ষেতের উচু জমিতে কালো কালো পাথরের স্তূপ। আশে পাশে ছোপ ছোপ বাড়ি। গাছগাছালি, বাঁশঝাড়, বট গাছ। তার নিচেই লোহার খনি নামক বিখ্যাত স্থান।

স্থানীয়রা জানান, আমরা এ খনি দেখে আসছি অনেক আগে থেকে। এ খনির আশে পাশে জমি চাষের সময় কালো কুঁচ কুঁচে পাথর দেখা যায়। লোহার আবরণ ভেসে উঠে কৃষি জমির পানিতে। একই রকমের লোহার খনি উপজেলার কির্তুনিয়া গ্রামের পাতলাই বিলেও দেখা যায়। কাপাসিয়া উপজেলা ঘেঁষে শীতলক্ষ নদী থেকে দ্ইু কিলোমিটার দূরে লোহাদীতে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ লৌহ খনি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, কার্পাস তুলার নামকরণে কাপাসিয়া, জমিদারের রায়ত থেকে রায়েদ গ্রাম, জলপাইগাছ থেকে জলপাইতলা, মাটির ঘরকে আঞ্চলিক ভাবে কুঠা বলে নামকরণ কুঠামনিবাজার। একই ভাবে লৌহ খনির কারণে লোহাদী গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে।

লোহাদী গ্রামের আলাউদ্দিন জানান, লোহার খনির এ জমিটি আমার দাদার কেনা। জমি কেনার সময়ও এখানে খনি ছিল। আমার দাদা বলত, তার বাবার কাছ থেকে এ খনি সর্ম্পকে অনেক গল্প শুনেছে। ব্যবসায়ী শরাফত হোসেন মোল্লা বলেন, ছোটবেলায় আমি স্থানীয় হাইলজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম। খনি নিয়ে স্যারের মুখে অনেক গল্প শুনেছি। আমার মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি লোহাদীতে বেড়াতে গেলে খনি দেখতে যেতাম। ছোটবেলায় যেমন দেখেছি আজও তেমনই আছে। এলাকাবাসী মনে করেন, কাপাসিয়ার লৌহ খনি থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে পাল্টে যাবে এলাকার চিত্র। এখানে আসবে দেশি-বিদেশী কোম্পানি। দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন সহ বেকারত্ব থেকেও মুক্তি পাবে অনেকে। প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান আ.হাই জানান, পাথরের আবরণ ভাসে জেনে পাকিস্থান আমলে একবার ভূ-তত্ত¡বিদ এসেছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. ইসমত আরা বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নয়। তবে উত্তোলন করার মতো লোহা হলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে। বাংলাদেশ হোটেল এন্ড গেস্ট হাউজের অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিফ অ্যাডভ্যাইজার অ্যান্ড ফউন্ডার প্রেসিডেন্ট সাদিক আহসান বলেন, আমি এ খনি দেখেছি। এখানে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে।