করোনা ভাইরাস; পিপিই নিয়ে একজন চিকিৎসকের আবেগঘন স্ট্যাটাস


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০ - ০৫:১৩:৫৪ অপরাহ্ন

নওগাঁ সংবাদদাতা: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি এরই মধ্যে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বে লাশের মিছিল শুধু দীর্ঘই হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটিতে প্রাণহানির সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত সাড়ে আট লাখের বেশি মানুষ। এর ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি চিকিৎসকরাও। সেই জন্য একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি মান্দা উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) চেয়ে না পেয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছে ডাঃ একরামুল বারি (টিপু)।
কয়েকদিন ধরেই বেশ কিছু জায়গার নিউজ দেখলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের ভয়ে ডাক্তার রোগী দেখছেননা এমন অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার দেখাতে না পেরে মারাও গেছে অনেকে। দেশের এই দুঃসময়ে একজন ডাক্তার  নিজেকে  সুরক্ষিত রেখে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে অনেকে প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন।
করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে সাধারণ রোগীদের সেবা দিয়ে যেতে পারেন সেই  জন্য উপজেলা প্রসাশনের কাছে পিপিই না পেয়ে হতাশ প্রকাশ করেছেন তিনি। সরেজমিনে কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বললে তার জানান, আমার ছেলের জ্বর হয়েছে এখন আমি কি করবো এই দূযোগ মূহুর্তে বাড়িতে বসে থাকতে পারলাম না, বাচ্চা নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন অনেকেই রোগী নিয়ে আসেন টিপু ডাক্তারের কাছে। অনেক পুরানো চিকিৎসক তিনি সেই জন্য তার নাম ডাকও অনেক বেশি। তিনি স্থানীয় হওয়ার কারণে কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারছেনা সবাই পরিচিত। করোনা ভাইরাসের মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি।
আবহাওয়া জনিত কারনে এই সময় মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর ঐসব রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) চেয়ে হতাস এই ডাক্তার।
পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-
আমি একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনার (এম বি বি এস)। বিশেষ করে শিশু রোগি বেশি দেখতে হয় আমাকে। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নিজেকে সুরক্ষার জন্যই চেম্বার প্র্যাকটিস বন্ধ রাখতে পারলেই ভালো হতো।  কিন্তু আমি একজন ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মি হওয়ায় এলাকার গরীব অসহায় মানুষ তাদের শিশুদের অসুখ হলে আমার কাছেই এসে থাকেন। ফলে তাদেরকে উপেক্ষা করার সুযোগ নাই আমার কাছে।
বর্তমান সময়ে একজন ডাক্তার হিসাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরী। সরকারের পক্ষ থেকেও বেসরকারি চিকিৎসকদের চেম্বারে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে/হচ্ছে। এমতাবস্থায় নিজেকে সুরক্ষিত রেখে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও মহোদয়ের কাছে একসেট পিপিই সরবরাহের আবেদন জানিয়ে বিফল হলাম।
ইউএনও মহোদয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাত দিয়ে জানালেন যে বেসরকারি পর্যায়ের ডাক্তারকে পিপিই দেয়া যাবে না। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারগণই শুধু সুরক্ষিত থাকবেন, বেসরকারিদের সুরক্ষার প্রয়োজন নাই – এরকম মনোভাব কতটা যুক্তিযুক্ত তা বুঝবার মত জ্ঞানী  হতে পারিনি এখনও।
বাইরে কোথাও পিপিই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে -এরকম কোন তথ্য জানা থাকলে তা জানিয়ে সহযোগিতার জন্য সকলের নিকট অনুরোধ  রইলো।