করোনা ভাইরাসকালীন সময়ে কোরবানি দেয়ার ইসলামী বিধান কি ?


» উত্তরা নিউজ টোয়েন্টিফর, ডেস্ক রিপোর্ট | | সর্বশেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২০ - ০৫:১৪:৪৬ অপরাহ্ন

আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন, সুরায়ে কাওসার, আয়াত দুই,। নামাজ হলো শারীরিক ইবাদত এবং কোরবানি আর্থিক ইবাদত সমূহের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।

কোরবানি না দিয়ে, তার টাকা গরীবদের দান করলে হবেনা। দশ জিলহজ থেকে বারো জিলহজ পর্যন্ত সকল সামর্থবান, ধনীদের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব বা সুন্নত। এ বিষয়ে কোরবানি না দিয়ে সে অর্থ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ ইসলামি শরিয়তে নেই। তবে হা যে সকল ধনী লোকেরা বিগত বছর গুলিতে একটা গরু এর বদলে দশটা গরু কোরবানি দিয়েছেন, তাঁরা এবারের করোনা ভাইরাস মহামারী কালীন সময়ে বেশী গরু বা ছাগল কোরবানি না দিয়ে, সেই টাকাটা গরীব অসহায়দের মাঝে দান করতে পারেন।

তবে সামর্থবানদেরকে কোরবানি দিতে হবে। করোনা ভাইরাসকালীন সময়ে অর্থনীতির অবস্থাও ভালো নেই, আল্লাহকে রাজী এবং খুশি করার জন্য কোরবানি দিতে হবে। রাছুল সা, কে জনৈক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাছুল সা, কোরবানি জিনিস টা কি?রাছুল সা, উওর দিলেন, কোরবানি হলো তোমাদের মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম আঃ এর অতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

যাদের সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সমপরিমাণ নিছাবের সম্পদ আছে, তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব। বিধায় কোরবানি এর টাকা করোনা ভাইরাসকালীন সময়ে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ ইসলামি শরিয়তে নেই। হা বিগত বছরে বেশি গরু কোরবানি দিয়েছেন, এবারে কম দিয়ে, সে টাকা টা গরীব অসহায়দের জন্য বিলিয়ে দিতে পারেন। তবে সামর্থবানদের কে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আসন্ন ঈদুল আজহাতে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পশু কোরবানি এর সাথে আমাদের মনকেও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মনের কোরবানি দিতে হবে।

আল্লাহ মানুষ এর মন দেখেন। আল্লাহ মানুষ এর নিয়ত দেখেন। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে মহামারী থেকে হিফাজত করুন, এবং সামর্থ বানদেরকে কোরবানি দেওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।

লেখক: মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছবিবর, অতিথি অনুবাদক মসজিদুল হারাম কা বা শরীফ, সাবেক ইমাম ও খতীব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ মসজিদ ।