করোনা টেস্ট সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২০ মে ২০২০ - ০৪:৩২:১৫ অপরাহ্ন

কোভিড-১৯ রোগের টেস্ট মূলত দুই ক্যাটাগরির- ডায়াগনস্টিক টেস্ট ও অ্যান্টিবডি টেস্ট। তবে এ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে অ্যান্টিজেন টেস্ট।

ডায়াগনস্টিক টেস্ট: এই টেস্টে জীবন্ত ভাইরাস খোঁজা হয়, হয়তো মলিকিউলার লেভেল (যা পিসিআর টেস্ট নামে পরিচিত)। অথবা ভাইরাসের অংশ ভাইরাল প্রোটিন (যা অ্যান্টিজেন টেস্ট নামে পরিচিত)।

অ্যান্টিবডি টেস্ট: এটি সেরোলজিক্যাল টেস্ট নামেও পরিচিত। এই টেস্টে ভাইরাসের প্রতি ইমিউন রেসপন্সে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে রক্ত ব্যবহার করা হয়। সাধারণত শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর কিছুসময় পর্যন্ত অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায় না বলে রোগনির্ণয়ের জন্য এই টেস্ট ব্যবহার করা যায় না। এই টেস্ট বিজ্ঞানীদের সহায়তা করতে পারে, যারা রোগের বিস্তার পর্যবেক্ষণ অথবা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছেন।

করোনা শনাক্তের এই টেস্টগুলো যেভাবে কাজ করে

ডায়াগনস্টিক টেস্টে সোয়াব দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয় একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে।

পিসিআর টেস্ট: নাক বা গলা থেকে শ্লেষ্মার নমুনা ব্যবহার করা হয়। একটি লম্বা সোয়াব নাকের ফুটো অথবা মুখের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গলার পেছন থেকে নমুনা নেয়া হয়। শ্লেষ্মা শোষণ করতে সোয়াবটিকে ঘোরানো বা ঘষা দেয়া হয়। পলিমেরাস চেইন রিয়্যাকশন (পিসিআর) প্রযুক্তিতে এসব শ্লেষ্মাকে পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ভাইরাস থাকলে শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত অসংখ্যবার ভাইরাসের ডিএনএ’র প্রতিলিপি করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ল্যাবে এসব টেস্ট করা হয় এবং ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়। কিছু টেস্টের ফলাফল কিছু মিনিটের মধ্যে পেতে পারেন। কিন্তু এটা মনে রাখা ভালো যে, কোনো টেস্টই নিখুঁত নয় এবং কিছু রেপিড-রেজাল্ট টেস্টে প্রচুর ফলস নেগেটিভ ফলাফল আসতে পারে।

অ্যান্টিজেন টেস্ট: এটি করোনা রোগনির্ণয়ের নতুন একটি পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জরুরি ব্যবহারের জন্য ৯ মে এটিকে প্রথম অনুমতি দেয়। কিন্তু এর মানে এটা নয় যে, টেস্টটি সংস্থাটির স্থায়ী অনুমোদন পেয়ে গেছে। এসব টেস্টেও নমুনা নিতে সোয়াব ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এখানে ডিএনএ’র প্রতিলিপির পরিবর্তে ভাইরাস প্রোটিনের খণ্ডিতাংশকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। কিছুসময় অপেক্ষা করেই অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল পেতে পারেন এবং এই টেস্টের পজিটিভ রেজাল্ট বেশ নির্ভরযোগ্য। এসব টেস্ট ভিন্ন উপায়ে সম্পন্ন হয় বলে এখানে পিসিআর টেস্টের চেয়ে বেশি সক্রিয় সংক্রমণ মিস হয়ে যেতে পারে।

অ্যান্টিবডি টেস্ট: শরীরের ইমিউন সিস্টেম অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে কিনা দেখতে রক্তের নমুনা ব্যবহার করা হয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার একটা নির্দিষ্ট সময় পর অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। এই টেস্টে ইমিউন রেসপন্স খোঁজা হলেও পজিটিভ অ্যান্টিবডি টেস্টের মানে এটা অবধারিত নয় যে, আপনার শরীরে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অনাক্রম্য ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। কোভিড-১৯ নতুন বলে এতে আরোগ্য ব্যক্তি পুনরায় সংক্রমিত হয় কিনা আমরা এখনো জানি না।

করোনা টেস্টে ফলস নেগেটিভ যে কারণে হয়

ফলাফলে ফলস নেগেটিভ আসার দুটি কারণ হচ্ছে: কিছু টেস্ট অন্যগুলোর চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য এবং যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে নমুনা সংগ্রহ করা। উদাহরণস্বরূপ, গলার পেছন পর্যন্ত সোয়াব প্রবেশ করালে অস্বস্তিকর বা অসহনীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে, যার ফলে নমুনাটিতে যথেষ্ট ম্যাটারিয়াল নাও থাকতে পারে। অথবা ভাইরাসটি ইতোমধ্যে গলা থেকে ফুসফুসে চলে গেছে, যেখানে সোয়াব পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের কোভিড-১৯ টেস্টিংয়ের প্রধান গ্যারি প্রোকপ বলেন, ‘কোনো টেস্টই ১০০ শতাংশ নির্ভুল নয়।’ তিনি করোনাভাইরাস টেস্টে পজিটিভ আসা নমুনাকে আরো পাঁচটি ভিন্ন টেস্টের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেন। এখনো পর্যন্ত অপ্রকাশিত গবেষণাটিতে ফলাফলের নির্ভুলতায় বৈচিত্র্যতা দেখা গেছে। একটি রেপিড-রেসপন্স মলিকিউলার টেস্টে নমুনার প্রায় ১৫ শতাংশে ফলস নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। ডা. প্রোকপ মনে করেন যে, কোভিড-১৯ টেস্ট করতে আসা লোকদেরকে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দিলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর উপসর্গ আছে এমন কারো টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসলে তাকে এটা বলা ভালো যে কোনো টেস্টই শত শতাংশে নির্ভুল নয়। তিনি যেন বাসায় গিয়ে নিজেকে আইসোলেশনে রাখেন, মাস্ক পরেন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। এতে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।’ ফলস নেগেটিভ বিপজ্জনক হতে পারে, যদি কোনো রোগী নিজেকে ভাইরাসমুক্ত ভেবে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শকে উপেক্ষা করে অবাধ বিচরণ করেন।