করোনা জয়ী সাধনা মিত্র মারা গেলেন সড়ক দুর্ঘটনায়


» Masud Rana | | সর্বশেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২০ - ০৭:০২:১৯ অপরাহ্ন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী সাধনা রানী মিত্র করোনা জয় করলেও মারা গেলেন সড়ক দুর্ঘটনায়। তিনি সোমবার দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২ টার দিকে মারা যান। সাধনা মিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই (টিকাদান কর্মসূচি) টেকনোলজিস্ট পদে চাকরি করতেন। তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা প্রায় শতাধিক ব্যক্তির দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন। পরে সুস্থ হয়ে অবারও নমুনা সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, দায়িত্ব পালনকালে সোমবার দুপুরে সাধনা মিত্র (৫০) তার এক সহকর্মীর মোটরসাইকেলে করে কেশবপুরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ওড়না জড়িয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে নেয়া হয় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আনা হয় মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তার অবস্থার অবনতি হলে বিকেল পাঁচটার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২ টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। সাধনার মৃত্যুতে স্বাস্থ্য বিভাগসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মেডিকেল অফিসার ডা. মোসাব্বিরুল ইসলাম রিফাত জানান, বাগেরহাট জেলার শরনখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কমলেশ চন্দ্র হালদারের স্ত্রী সাধনা মিত্র ইপিআই টেকনোলজিস্ট হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৯২ সালের ২৫ অক্টোবর। স্বামী কমলেশ হালদার ছিলেন শরণখোলার একটি বেসরকরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সাধনা মণিরামপুরে বদলি হয়ে আসেন। দুই মেয়ে এবং একমাত্র ছেলেকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভাড়া বাসায় ভালই চলছিল তার সংসার। ইতিমধ্যে বড় মেয়ে সাথী হালদারকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে প্রিয়াংকা হালদার বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে অনার্স পড়ছেন। একমাত্র ছেলে বিশ্বজিৎ হালদার ঢাকা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে বর্তমান ইন্টার্নিশিপ করছেন। গত ফেব্রয়ারি মাসে সাধনার স্বামী ঢাকা থেকে আসার পথে হার্টস্ট্রোকে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর মাত্র চারমাস পর সাধনারও মৃত্যু হলো। তবে সাধনার মৃত্যু হলো করোনাকালিন দায়িত্ব পালনের সময়।

উল্লেখ্য গত ২ এপ্রিল থেকে মণিরামপুরে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন সাধনা মিত্র। ২৯ এপ্রিল তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। ১৪ মে সুস্থ্য হয়ে সাধনা আবারও শুরু করেন নমুনা সংগ্রহের কাজ।