করোনা আতঙ্ক: পশ্চিমবঙ্গে সব স্কুল কলেজ মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০ - ১০:৪৫:০১ পূর্বাহ্ন

প্রাণঘাতী করোনা প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ৫০টি করা হয়েছে। কলকাতায় ইতিমধ্যে বহু স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে সেখানের হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাওড়ার শিবপুরের প্রকৌশলী কলেজ, খড়গপুরের আইআইটিসহ কলকাতার আরও কয়েকটি কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে, করোনা আতঙ্কে কলকাতা শহরের পথেঘাটে জনসমাগম কমে গেছে। যানবাহনে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

স্কুল-কলেজ, শপিং মল, হাটবাজারে মানুষের সংখ্যা কমছে। বহু এলাকার সিনেমা হল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কলকাতা বন্দরে আসা বিদেশিসহ দেশি নাবিকদের করোনা আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে।

করোনা আতঙ্কে কলকাতা-ঢাকা-খুলনায় চলাচলকারী মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রবি মহাপাত্র বলেন, রোববার থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে সড়কপথে বাংলাদেশি যাত্রী নিজ দেশে যেতে পারছেন এবং ভারতীয়রা ফিরে আসতে পারছেন।

শনিবার দুপুরে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের ভারতীয় অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তা কুমার সিং বলেন, এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিরা এখনও দেশে ফিরতে পারছেন।

আবার ভারতীয় নাগরিকরাও ফিরতে পারছেন। ফিরে আসা ভারতীয়দের শরীরে সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা গেলে তাদের সীমান্তের কোয়ারেন্টিনে ১৫ দিনের জন্য রাখা হচ্ছে।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান জানান, বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেনি। শুক্রবারও ভিসা দেয়া হয়েছে।

শনিবার ও রোববার ভিসা অফিস বন্ধ। তবে তিনি বলেন, ভিসা প্রার্থীদের সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, যেসব বাংলাদেশি ভারতে রয়েছেন তারা দেশে ফিরে যেতে পারবেন।