করোনায় শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরামর্শ


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ - ১১:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা নতুনভাবে সেশনজটে পড়বে, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্ক করছেন শিক্ষাবিদরা। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, এতে খুব বেশি সমস্যা হবে না, যদি পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সেমিস্টার ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসে নামিয়ে আনতে পারে। সরকারি বন্ধ দুই দিনের পরিবর্তে এক দিন করে দিতে হবে। বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক ছুটি কমিয়ে ও সব সময় ক্লাস নিয়ে এটি ফুলফিল করতে পারে। তবে এজন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে শুরু থেকে যদি পরিকল্পনা নিয়ে রাখতাম তাহলে আমাদের আজকের এই পরিস্থিতির হতো না। তেমনিভাবে আমি বলব, এখন পড়াশোনার যে বিঘ্ন ঘটছে সেটা কাটিয়ে উঠতে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।’

শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. একরামুল কবীর বলেন, ‘যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয় তাহলে সেটার জন্য এখনই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে আমরা যেসব পরীক্ষা অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ নিয়ে থাকি, সেগুলোকে ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের যে একটি বছর হারিয়ে যাচ্ছে, তা আগামী দুই বছরের মধ্যে রিকভার করার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমরা দেখছি যে, বিভিন্ন শিল্পকারখানা গুলো আস্তে আস্তে খুলছে। অর্থনীতি সচল রাখতে স্বাস্থবিধি মেনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে যদি আমরা যদি একেবারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেই তাহলে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। কারণ, বিভিন্ন আবাসিক হল কিংবা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উপায় নেই। এক্ষেত্রে সরকার অনলাইন ক্লাসের কথা বলছে। অনলাইন ক্লাসের বিষয়টা একটু চিন্তা করতে হবে যে, কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সামর্থ্য আছে? শিক্ষার্থীদের অনেকের সামর্থ্য নেই।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, ‘করোনা বৈশ্বিক সমস্যা। শিশুরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। শিশুদের আগে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী তিন বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন, তা বাস্তবায়নে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।’