করোনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের ১৪ প্রস্তাবনা


» উত্তরা নিউজ | অনলাইন রিপোর্ট | সর্বশেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২০ - ০৪:১৭:৫৯ অপরাহ্ন

করােনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণকালে সামগ্রিক কৃষিখাত সচল ও গতিশীল রেখে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ১৪টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)।

রোববার (৩ মে) সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মাে. শহীদুর রশীদ ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মাে. খায়রুল আলম প্রিন্স স্বাক্ষরিত এসব লিখিত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, আপনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রসহ সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও যার যার সাধ্যমত বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান সংকট মােকাবিলায় এগিয়ে আসছে এবং তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। করোনার কারণে আজ নানাভাবে আমাদের কৃষির সকল খাতই হুমকির মধ্যে পড়েছে। মাঠের ফসল সংগ্রহ, উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে শাক-সবজি ফলমূল ইত্যাদি বাজারজাতকরণ, ফসলের পরিচর্যা, ফসল, প্রাণি ও মৎস্য উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ, সরবরাহ, বিতরণ ও বাজার তদারকি, প্রণােদনা কর্মসূচির কৃষক তালিকা তৈরি ও বাস্তবায়ন, কৃষিজ পণ্যের সরবরাহ চেইন চালু রাখা, সময় সময় জরুরি নিদের্শনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে চলমান ত্রাণ কার্যক্রমেও ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ।

কৃষিজ উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনাসমূহ উপস্থাপন করে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়-

১. আপনার ঘােষিত কৃষি প্রণােদনার অর্থ বিনিয়ােগের জন্য গ্রামীণ পর্যায়ে উদ্যোক্তা কৃষক বাছাইয়ের কাজ ও কৃষির উপখাতসমূহের স্ব স্ব বিভাগের মাধ্যমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে প্রকৃত উদ্যোক্তা কৃষকের ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে এবং বিভাগীয় প্রযুক্তিগত সেবায় ফসল, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যসহ অন্যান্য খাতে গৃহীত পদক্ষেপে সাফল্য আসবে।

২. কৃষিজাত পণ্যের ঝুঁকিমুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়াসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্য নিদির্ষ্ট স্থান থেকে সরবরাহের দায়িত্ব কৃষি, প্রাণি ও মৎস্য বিভাগসমূহ সম্মিলিতভাবে পালন করতে পারে । সরবরাহ সক্রিয় রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরাধীন অব্যবহৃত পরিবহন ট্রাকও ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

৩. বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সংকটকালে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ কৃষি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

৪. স্থানীয় পর্যায়ে সামগ্রিক কৃষি সেবাদানকারী বিভাগসমূহের কর্মকর্তাদের গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত কৃষিপ্রযুক্তি সেবা সরবরাহ, মাঠ পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। তাই করােনাসৃষ্ট লকডাউনের কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বিভাগের অলস পড়ে থাকা গাড়িসমূহ ড্রাইভার ও লজিস্টিকসহ মাঠপর্যায়ে সেবাদানকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে ।

৫. উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে সামগ্রিক কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ত্রাণ বিতরণের মত জরুরি কাজে নিয়ােজিত করা হলে জরুরি কৃষি বা প্রাণিসম্পদ বা মৎস্যসম্পদ সম্প্রসারণ সেবা ব্যাহত না করেও অন্যান্য জরুরি সেবায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

৬. সামগ্রিক কৃষিখাতের সাথে সংশ্রিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনাযােদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উৎসাহিত করা এবং প্রণােদনা প্যাকেজ ঘােষণা করা।

৭. প্রাণিসম্পদ শিল্প হতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট রােগজীবাণু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। সে কারণে ‘ফার্ম টু ফর্ক’ প্রতিটি স্তরে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি-নজরদারি নিশ্চিত করা।

৮. জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের আওতাধীন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন স্বাভাবিক গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়ােজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া।

৯. ফসল খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়াসে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাজের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়ােজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১০. খরা মৌসুমের প্রধান প্রধান ফসল, যেম- আউশ ধান, পাট, মুগডাল প্রভৃতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা যেন অর্জিত হয় সে বিষয়ে কৃষি গবেষণা, বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যৌথ কর্মধারা সচল রাখার মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় বীজসহ প্যাকেজ সময় মতো সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

১১. কৃষি উপকরণ দেশের বাইরে থেকে আনা, খাদ্যপণ্য আমদানি-রফতানি এবং কৃষিপণ্যের ও উপকরণের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা সুচারুরূপে চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরকে তৎপর থাকার ব্যবস্থা।

১২. খাদ্য শস্যের উৎপাদন বাড়ানাের লক্ষ্যে এক খণ্ড জমি ও অনাবাদি না রাখার নীতি গ্রহণ করে আসন্ন আউশ, আমন ও খরিপ মৌসুমে (যেমন- গম, ভুট্টা, পাট, সবজি ও অন্যান্য ফসল) জমির পরিমাণ বাড়িয়ে অধিক ফসল উৎপাদনের সঠিক পরিকল্পনা নেয়া।

১৩. ফসল উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয় সে জন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।

১৪. এবং এই সংকটকালে কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে সদ্য পাসকৃত গ্রাজুয়েটদের স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।