করোনায় থমকে গেছে গফরগাঁওয়ের ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ - ১০:০২:৩৭ অপরাহ্ন

তারেক সরকার, গফরগাঁও ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ জীবন বাঁচাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই যেখানে ভরসা, সেখানে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই বলতে গেলে করোনা আক্রান্ত। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত উপজেলায় ১১ করোনা আক্রান্তের মধ্যে নয়জনই ওই হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী। ফলে থমকে গেছে হাসপাতালটির চিকিৎসাব্যবস্থা।
প্রথম গত ১৩ এপ্রিল হাসপাতালটির দুজন চিকিৎসকের করোনা শনাক্তের পর ওই দিন থেকেই এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আউটডোর-ইনডোর বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে শুধু জরুরি বিভাগ। তাও আবার নেই কোন মেডিকেল অফিসার। উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সহকারী ডাক্তার) দিয়েই চলছে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা।
আক্রান্তরা সকলেই গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, সহকারী চিকিৎসক, নার্স। এর মধ্যে তিনজন মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার), তিনজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার (সহকারী ডাক্তার), দুজন স্টাফ নার্স ও একজন হিসাবরক্ষক। তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নার্সও রয়েছেন।
এ অবস্থায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ৫০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে হটলাইনের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হাসপাতালটিতে ২১ জন চিকিৎসকের স্থলে স্বাস্থ্যকর্মকর্তাসহ কর্মরত রয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে ১০ জন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। ২০ জন নার্সের মধ্যে ১৬ জন কর্মরত।
প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত গফরগাঁও উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও দেখা দিয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সংকট।
সামাজিক সংগঠন ‘গফরগাঁও পঁচাশি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আরশাদ আহমেদ বলেন, এই উপজেলা ছাড়াও পাশের নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল ও হোসেনপুর উপজেলার একাংশ থেকে প্রতিদিন এই হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। এই হাসপাতালের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কারণে অনেকেই ভয়ে আছেন।
একই মত দেন গণমাধ্যম কর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফকির এ মতিন। তিনি বলেন, উপজেলার লাখো মানুষের সাধারণ চিকিৎসাসেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম খোকন বলেন, সাধারণ রোগের চিকিৎসাসেবা সীমিত আকারে পেলেও ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রসূতিরা। গত বৃহস্পতিবার মলি আক্তার নামে বাসুটিয়া গ্রামের একজন প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হলে তিনি নিজেই মাইক্রোবাস চালিয়ে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
একই সাথে ভুক্তভোগী অসংখ্য ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগী। যাদের নিয়মিত রক্তের সুগার পরীক্ষা করে নিতে হয় ইনস্যুলিন। পরীক্ষাগার বন্ধ থাকায় নিজের ডায়বেটিসের মাত্রা জানতে না পেরে উদ্বিগ্ন বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন অনুমানের উপর নির্ভর করেই ওষুধ সেবন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মাইনুদ্দিন খান মানিক বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, আয়া, অফিস সহকারীসহ নয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর মানুষের মাঝে কিছুটা ভীতিও সঞ্চার হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোর বন্ধ করে সীমিত পরিসরে জরুরি বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। তবে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা মোবাইল সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্সসহ এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এতে তিনজন মেডিকেল অফিসার, তিনজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, দুজন নার্সসহ নয়জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের সকল স্টাফের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।