করোনায় তরুণরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০ - ১০:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসে প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে ভয়াবহ এই রোগের টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে আগে আমরা জেনে এসেছি এই রোগে বয়স্ক পুরুষদের ঝুঁকি বেশি । তবে এখন আর তেমনটি মনে করা হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, বয়স্ক পুরুষদের করোনার ঝুঁকি বেশি থাকলেও তরুণরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকির বাইরে নয়। সামাজিক মেলামেশা বা যোগাযোগের মাধ্যমে এই ভাইরাস বয়স্কদের মধ্যে ছড়ানোর বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, তরুণদের পদক্ষেপ একজন মানুষের জীবন বাঁচতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, এই ভাইরাসে বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে এই ভাইরাস সম্পর্কে কম সতর্ক থাকার প্রবণতা দেখা গেছে।

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মারা গেছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

শুরুতে করোনাভাইরাসের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এমন মনে করা হয়েছে। তবে নতুন কয়েকটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর সেই ধারণার পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্তদের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে করা পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তরুণদের মৃত্যুঝুঁকিও কম নয়। আগের পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা হচ্ছিল তরুণদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ২ হাজার ৫০০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য পর্যালোচনা করা হয় প্রতিবেদনটি তৈরিতে। সেখানে দেখা যায়, ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যাদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে, তাদের ২০ শতাংশের বয়স ২০-৪৪ এর মধ্যে; আর ৩৮ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। তবে কোভিড ১৯-এর কারণে যারা মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশ বয়স্ক।

বৈশ্বিক হিসেবে ৮৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সী যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ মারা গেছেন। ৪০ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার ০.২ শতাংশ। তবে এর মানে এই নয় যে, তরুণরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হচ্ছেন না।

সিডিসির রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যাদের বয়স ২০-৩০ এর কোঠায় তারা যে হারে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন তা ৫০ বা ৬০-এর কোঠায় থাকা মানুষের হাসপাতালে যাওয়ার হারের চেয়ে কম।

নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হচ্ছে কাদের?

সিডিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তরুণদের অনেকে হাসপাতালে নিতে হলেও তাদের খুব কম সংখ্যকেই নিবিড় পরিচর্যায় বা আইসিইউতে নিতে হয়েছে। তবে সংখ্যাটা অল্প হলেও তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ইতালির সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায়, আইসিইউতে ভর্তি হওয়া ১২ শতাংশ রোগীর বয়স ১৯ থেকে ৫০-এর মধ্যে। ফ্রান্সের পরিসংখ্যানেও তরুণদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ানোর হার বেশি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে?

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দফতর থেকে এক অনলাইন নিউজ কনফারেন্সে সংস্থাটির প্রধান টেড্রস ঘেব্রেয়েসাস বলেন, বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তরুণদের নিরাপদ বলা যাবে না।

তরুণদের প্রতি আমার একটি বার্তা হচ্ছে, আপনারা সম্পূর্ণ নিরাপদ নন। ভাইরাস আপনাদের কয়েক সপ্তাহের জন্য হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করতে পারে। আর মৃত্যুও হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা