কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী’র সাথে স্পীকারের সৌজন্য সাক্ষাত


» কামরুল হাসান রনি | ডেস্ক ইনচার্জ | | সর্বশেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯ - ১১:২১:৩৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ২০নভেম্বর, ২০১৯ খ্রিঃ কম্বোডিয়ায় সফররত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি আজ কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক হুন সেন এর সাথে তাঁর নিজ কার্যালয় পীছ পেলেসে সাক্ষাত করেন। পীছ পেলেসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী হুন সেন স্পীকারকে উষ্ণ অর্ভ্যত্থনা জানান। তিনি এশিয়া প্যাসিফিক ফোরামে অংশগ্রহণ করায় স্পীকারকে ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাতকালে তাঁরা সংসদীয় চর্চা, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি ও উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পীকার বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ১৯৭৩সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কম্বোডিয়ার প্রয়াত ফাদার কিং নরোদম সিহানুক এর সাক্ষাতের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বড় বোনের মতো উল্লেখ করে হুন সেন ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কম্বোডিয়া সফর ও ২০১৪ সালে তাঁর ঢাকা সফরের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এসব সফরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়।

হুন সেন মেকং-গঙ্গা সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের আওতায় এতদ অঞ্চলে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার ক্ষেত্রে এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম খুবই সহায়ক ভূমিকা রাখে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক সর্ম্পক জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আধুনিক কম্বোডিয়া বিনির্মাণে হুন সেনের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার সংগ্রামসহ ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, তৎপরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে স্পীকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ধারাবাহিক উন্নয়নের মহাসড়কে। ধারাবাহিকভাবে ৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। দেশের ১৬০ মিলিয়ন জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশে একশটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পর্যায়ে সফরের মধ্য দিয়ে সর্ম্পক জোরদার হয়েছে। স্পীকার নমপেনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণের উদ্যোগ নেওয়ায় হুন সেনের প্রতি কৃজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, ঢাকাতেও রাজা সিহানুকের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হবে।

স্পীকার মিয়ানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আসিয়ান পর্যায়ে চাপ অব্যাহত রাখার জন্য হুন সেনকে অনুরোধ জানান।

এর আগে স্পীকার ন্যাশনাল এসেম্বলি অব কম্বোডিয়ার স্পীকার সামদেক চাকরেই হেঙ সামরিন (Samdech Akka Moha Ponhea Chakrei Heng Samrin) এবং কম্বোডিয়ার সিনেটের প্রেসিডেন্ট সামদেক ফিকদেই সে চাম (Samdech Vibolsena Pheakdei Say Chhum) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে তাঁরা বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংসদীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধির উপর তাগিদ দেওয়া হয়।

পরে স্পীকার নমপেনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রস্তাবিত সড়কটি পরিদর্শন করেন।

এ সময় কম্বোডিয়ার সরকার ও সংসদীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।