ঐতিহ্যের উচ্ছ্বাসে মুখরিত ডিভাইন স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের পিঠা উৎসব


» Md. Neamul Hasan Neaz | | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ - ০৮:৪৬:২১ অপরাহ্ন

হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরা। খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীসমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি যেন শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।

বাংলার নারীসমাজ অতীতে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর ছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়।

শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার এই ইট-কাঠের নগরীতে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য।

তাই মুখরোচক খাবার হিসেবে পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও জনসমক্ষে একে আরো পরিচিত করে তুলতে শহরের ডিভাইন স্টান্ডার্ড স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো জমকালো পিঠা উৎসব -১৪২৬।

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজনটি সম্পন্ন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) বেলা ১০টায় উত্তরাস্থ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এমন আয়োজনে ১০টি পিঠার স্টলে বিভিন্ন স্বাদের পিঠা (ক্ষীরপুলি, চন্দ্রপুলি, পোয়া পিঠা, ভাপা পিঠা, ছাঁচ পিঠা, ছিটকা পিঠা, আস্কে পিঠা, চাঁদ পাকন পিঠা, সুন্দরী পাকন, সর ভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, মুঠি পিঠা, নকশি পিঠা ইত্যাদি) পরিবেশ করা হয়।

এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্টলে স্টলে ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে পিঠা পরিবেশন করেন।

এ সময় ডিভাইন স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল সুরাইয়া মোস্তাফিজ উত্তরা নিউজকে বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ পিঠা উৎসবের আয়োজন করি। যারই ধারাবাহিকতায় আমরা এ বছরও আয়োজনটি সম্পন্ন করেছি। এখানে অভিভাবক ও শিক্ষর্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে। এতে তাদের মধ্যে আমরা বাঙালি সংস্কৃতিকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রতি বছরই বিভিন্ন জাতীয় দিবসের পাশাপাশি এই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি।’

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিভাইন স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের শিক্ষক, ত্বোহা আহম্মেদ, শিক্ষিকা মেহেনাজ লিমা ও মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

উত্তরা নিউজি/এম এন এইচ এন