মোহাম্মদ তারেকউজ্জামান খান মোহাম্মদ তারেকউজ্জামান খান
সম্পাদক ও প্রকাশক


ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য নেই






নামে ঐক্যফ্রন্ট হলেও কাজে তাদের ঐক্যর কোন ছিটেফোঁটাও নেই সংসদে। নানা বিতর্ক আর নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে জাতীয় সংসদে যোগ দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত আট এমপি। উপনির্বাচনে বিজয়ী আরও একজন শপথের অপেক্ষায় আছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে আলোচিতও হয়েছেন অনেকে। তবে ঐক্যফ্রন্টের এসব এমপির মধ্যে আজও কোনো ঐক্য গড়ে ওঠেনি।

বরং বিএনপির পাঁচজন ছাড়া সবাই বিচ্ছিন্ন অবস্থায়ই রয়েছেন। তবে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের শপথের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সংসদে ঐক্যফ্রন্টের এমপিদের মধ্যে এখনও কোনো সমন্বয় হয়নি। তবে আগামীতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংসদে আমাদের দলের মাত্র একজন প্রতিনিধি আছেন। তাই এ বিষয়ে আমাদের ভূমিকা কম। আরেকজন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বহিষ্কৃত। তিনি দলে ফেরার কোনো আবেদন করেননি।

সূত্রমতে, গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। তবে এ নির্বাচনে বিএনপির ছয়জন এবং গণফোরামের দুইজন নির্বাচিত হন।

তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা। তবে সংসদে যোগ দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়; যার রেশ এখনও ঠিকমতো কাটিয়ে উঠতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
৭ মার্চ দলীয় সিদ্ধান্তের আগেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শপথ নেওয়ায় দল ও ফ্রন্ট থেকে বহিষ্কার হন গণফোরাম থেকে নির্বাচিত মৌলভীবাজার-২ আসনের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। পরবর্তী সময়ে ২ এপ্রিল একইভাবে শপথ নেন গণফোরাম নেতা সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান। অবশ্য তাকে দল থেকে শোকজ করা হলেও পরবর্তী সময়ে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সুলতান মনসুর দলে ফেরার কোনো আবেদন করেননি। গণফোরাম বা ঐক্যফ্রন্টে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

এদিকে গণফোরামের দুই নেতার পর দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২৫ এপ্রিল শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর কয়েকদিন পর ২৯ এপ্রিল দলীয় সিদ্ধান্তেই শপথ নেন বিএনপির আরও চার এমপি। তারা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ও বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন।

অবশ্য দলীয় কৌশলের কথা বলে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন বগুড়া-৬ আসনের এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন দেওয়া হয়। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে অংশ নিয়ে ২৪ জুন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ নির্বাচিত হন। এখনও তার শপথ হয়নি।

এর আগে বিএনপির জন্য সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সব মিলিয়ে সংসদে বিএনপির সাতজন এবং গণফোরামের একজনের প্রতিনিধিত্ব থাকছে।

এসব এমপির মধ্যে আদৌ সমন্বয় বা ঐক্য গড়ে ওঠবে কিনা, তারা কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন- তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে আকস্মিকভাবে বিএনপির চার এমপির শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দল ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বেশ মনোমালিন্য দেখা দেয়। এমনকি এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সন্দেহ-অবিশ্বাসও তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া-৪ আসনের এমপি ও বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, বগুড়া সদর আসনের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের শপথের পর পরবর্তী করণীয় নিয়ে আমরা সবাইকে নিয়ে বসব। যারা বিচ্ছিন্নভাবে আছেন, তারা একসঙ্গে চলবেন না কী করবেন সে বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত জাহিদুর রহমান দলে ফেরার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। সংসদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।