এগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের কাজ, ভায়াডাক্ট বসেছে ১১.০৪ কিমি


» এইচ এম মাহমুদ হাসান | | সর্বশেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ - ০১:২৩:৪৪ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষের ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি।

চলছে ভায়াডাক্ট, রেল ট্র্যাক বসানোসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। আর একটি বছর ঘুরলেই ট্র্যাকে চলবে স্বপ্নের মেট্রোরেল।

মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সচিব এম এ এন সিদ্দিক বাংলানিউজকে বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। স্টেশন রয়েছে ৯টি। ১১ দশমিক ০৪ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান। পাশাপাশি ৯০ মিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ৯টি স্টেশনের উপ-কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি মাসে আমরা প্রকল্পের সবশেষ অগ্রগতি জানাই।

প্রকল্পটি ৮টি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পরিষেবা স্থানান্তর, চেক বোরিং, টেস্ট পাইল, মূল পাইল, পাইল ক্যাপ, আই গার্ডার, প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিং ও পিয়ার হেড নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের ছাদ নির্মাণের কাজ চলছে। উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ কাজ সমাপ্ত। উত্তরা উত্তর স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। উত্তরা উত্তর ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনে স্টিল স্ট্রাকচার ইরেকশন কাজ চলমান। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন এবং স্টেশন কন্ট্রোলার কক্ষ নির্মাণ কাজ চলমান। মেট্রোরেল নির্মাণে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় তা বিবেচনায় পাঁচটি লং স্প্যান ব্যালান্স ক্যান্টিলিভারের মধ্যে তিনটি সমাপ্ত হয়েছে। ৭ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট রেললাইন ও ওভারহেড ক্যাটেনারিস সিস্টেম (ওসিএস) স্থাপনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৬ বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের কাজের অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণের জন্য আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজের অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক (রেলকোচ) ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ৪১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সোশ্যাল স্ট্যাডিও চূড়ান্ত পর্যায়ে।

আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৫২ দশমিক ১১ শতাংশ। কাওরানবাজার থেকে মতিঝিল অংশের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্যাকেজ-০৭ এর আওতায় ডিপো এলাকার ওয়ার্কশপ শেডের অভ্যন্তরে ১১টি রেললাইনের মধ্যে চারটি লাইনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। টঙ্গী ও মানিকনগর গ্রিড সাব-স্টেশন স্থাপন এবং উত্তরা ডিপোতে রিসিভিং সাব স্টেশনের পূর্ত কাজও শেষ। সাতটি লাইনে রেলট্র্যাক স্থাপনের কাজ চলমান। স্ট্যাবলিং শেডের অভ্যান্তরে ১০টি রেললাইনের মধ্যে ৫টিতে রেললাইন স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ডিপোতে ৮ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। ডিপোর অভ্যন্তরে রেললাইন স্থাপন কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। ভায়াডাক্টে ৩ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার ট্র্যাক প্লিথ কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫২ দশমকি ৫০ শতাংশ।

মেট্রো ট্রেনের মক আপ গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ‍উত্তরা ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। ছয়টি যাত্রীবাহী কোচ মেট্রো ট্রেন সেটের নির্মাণ ডিসেম্বর মাসে জাপানে সম্পন্ন হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। ঢাকার যানজট নিরসন ও নগরবাসীর যাতায়াত আরামদায়ক, দ্রুততর ও নির্বিঘ্ন করতে ২০১২ সালে গৃহীত হয় মেট্রোরেল প্রকল্প। ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকবে ৬টি করে কার। যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ১শ কিলোমিটার বেগে ছুটবে এ ট্রেন। উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহনে সক্ষমতা থাকবে মেট্রোরেলের। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।