এখন মাস্ক পরতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প


» Masud Rana | | সর্বশেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২০ - ১২:৪৯:৫৭ অপরাহ্ন

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে থাকলেও কখনই মাস্ক পরতে রাজি ছিলেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ধারণা করতেন, করোনা সংক্রমণ কমাতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজন নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সুর পাল্টেছেন তিনি। এখন জনসম্মুখে মাস্ক পরতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

মাস্ক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইনকে ক্রমাগত উপেক্ষা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জনসমাগমে মাস্ক পরা থেকে বিরত ছিলেন। তবে দুদিন আগে দৃষ্টান্তস্বরূপ ট্রাম্পকে মাস্ক পরতে বলেছিলেন তার দল রিপাবলিকান পার্টির এক বড় নেতা। তার কথা শুনে হয়তো সামনে নির্বাচনের কথা ভেবেই অবশেষে মাস্ক পরতে রাজি হন ট্রাম্প।

ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বুধবার বলেন, ‘আমি মাস্কের পক্ষে। আমি যদি মানুষের সঙ্গে ঠাসাঠাসি অবস্থায় থাকি, তাহলে অবশ্যই আমি মাস্ক পরবো।’

জনসমাগমে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে তার কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে ট্রাম্প আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে অনেক জায়গা আছে, যেখানে মানুষজন পরস্পরের কাছ থেকে বেশ দূরে অবস্থান করে। তবে তারা যদি মাস্ক পরে ভালো বোধ করে তাহলে তারা পরতে পারে।’

করোনাভাইরাস একদিন উধাও হয়ে যাবে- একথা তিনি এখনও বিশ্বাস করেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি। অবশ্যই, কোনো একটা সময় এটা চলে যাবে।’

গত এপ্রিলে আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জনসমাগমে মাস্ক পরার সুপারিশ করেছিল। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মাস্ক পরবেন না। একজন মানুষ মাস্ক পরবে কিনা সেটি তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।

গত মে মাসে মিশিগানে একটি কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন ক্যামেরার সামনে আসার আগে তিনি মাস্ক খুলে ফেলেন। তার হাতে তখনও মাস্ক ছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘মাস্ক পরার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে বিনোদনের কারণ হতে চাই না।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় সাড়ে ২৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত ও ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের অন্যতম বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসি এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মানুষ এখনও মুখে মাস্ক পরছে না ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে না। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।