একুশ শতাব্দীতে জনগণ দেশ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে চায়

এমপি’র পুত্র এমপি হবে, সরকারের পুত্র সরকার হবে, ডাকাতের পুত্র ডাকাত হবে এই হলো রাজনীতির চলমান নীতি আদর্শ

» উত্তরা নিউজ ডেস্ক জি.এম.টি | | সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২০ - ০৮:০৯:২২ অপরাহ্ন

এন.ইউ. আহম্মেদ


যাদের ত্যাগ ও সাহসিকতায় দেশ স্বাধীন হলো, তাদের কারণেই স্বাধীন দেশে বসবাস করার, রাজনীতি করার কথা বলার সুযোগ হলো। গভীর শ্রদ্ধায় স্বরণ করছি প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদদের। স্বাধীনতা অর্জন করা পর বাংলাদেশে ৪৮ বছর স্বাধীনতা রক্ষা হয়নি। স্বাধীন দেশে খুন, হত্যা, নির্যাতন, সীমান্ত হত্যা এদেশের জনগণের ভাই হারানো, স্বামী হারানো, সন্তান হারানোর অত্যাচার আজও বিদ্যমান।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সিভিল প্রক্রিয়া অর্থাৎ ইট, রড, সিমেন্টের দ্বারা বিল্ডিং ও ওভারব্রীজের উন্নতি হয়েছে। মানুষের মনুষ্যত্ব, মৌলিক অধিকারের উন্নতি হয়নি। অপরাজনীতির কারণে দেশে মৌলিক অধিকারের বেহাল দশা। স্বাধীনতার পর শীর্ষ ও সিনিয়র অনেক নেতাদের গণতান্ত্রিক মনুষ্যত্বের উন্নতি চরম নিম্নমানের।

পরিবারতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী দ্বারা গণতন্ত্রের মনুষ্যত্ব গ্রাস ও বিলুপ্ত। স্বাধীনতার পর ব্যাংক লুট, দুর্নীতি, খুন, গুম, বালিশ দুর্নীতি, পর্দা দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, শেয়ারবাজারের নিম্নগতি, ক্যাসিনোর উর্ধ্বগতি, বর্ডারে বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারের বাংলাদেশি হত্যা প্রমাণ করে দেশ ও জনগণ তাদের নিকট ইজারা হয়ে গেছে। জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। কারণ দেশের মালিক জনগণ। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে যারা স্বাধীনতার ইজ্জত সম্মান লুটপাট করেছে তারাই স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসেছে।

যে ছাত্রসমাজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ বহন করার কথা সেই সমাজই আবরারকে হত্যা করে ছাত্রসমাজকে কলংকিত করেছে। কিছু কু-ছাত্রসমাজ দালালী, স্বজনপ্রীতি, রাজনীতিতে জড়িত। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অনেক শীর্ষ সিনিয়র নেতাদের মনে হয় তারা তৎকালীন পাকিস্তানের মিলিটারীদের মতো শাসন, নির্যাতন, শোষণ চালাচ্ছে। এমপি’র পুত্র এমপি হবে, সরকারের পুত্র সরকার হবে, ডাকাতের পুত্র ডাকাত হবে এই হলো রাজনীতির চলমান নীতি আদর্শ। শীর্ষনেতারা নিজস্ব দলের পক্ষে রাজনীতি করে। বর্তমানে তারা জনগণের পক্ষে ও জনকল্যাণের পক্ষে রাজনীতি করে না। স্বাধীনতার পর হতে ঘটনা প্রবাহ ষড়ঋতুতে পরিণত হয়েছে। খুন হত্যা হতে থাকলে তখন খুন হত্যাই হতে থাকে। আগুন লাগলে তখন আগুন লাগতেই থাকে। দুর্নীতির ফলে ডেঙ্গুর প্রভাবে ডেঙ্গু ঋতুতে পরিণত হলো, মানুষ মরতে থাকলো। দুর্নীতির উচ্চমাত্রায় সন্ত্রাস সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হবে। বর্তমানের ব্যাংকে টাকা নেই, দুর্নীতিবাজদের বাসা, অফিস একেকটি জাতীয় ব্যাংকের পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ও জাতির চিরশত্রু দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে হবে। জাতিকে ধ্বংস করার জন্য দুর্নীতিবাজরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্রকারী। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানীদের চেয়ে বড় শত্রু হলো বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজরা।

ভোট না দেয়ায় গৃহবধূ নির্যাতন, অতীতের তুলনায় শিশু নির্যাতন-নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের কূটকৌশলে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে এবং পুরুষ খুন-হত্যা হচ্ছে। নারী নেত্রী শাসন আমলে রক্ত রাষ্ট্র তৎকালীন পাকিস্তান আমলের চেয়ে মানুষ পুড়ানো, হত্যা, গুম, খুন, পুরুষ হত্যা, শিশু হত্যা, নির্যাতন বেড়েছে। আগে জানতাম সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি, বর্তমানে ভিআইপির সময়ের চেয়ে জনগণের সন্তানের প্রাণের মূল্য অনেক কম। ফেরিঘাটের ঘটনার কথাই বলছি।

ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। খাদ্যে ভেজাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর্থিক অভাবে, সুচিকিৎসার অভাবে এখনো মানুষ মৃত্যুবরণ করে। রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাতে মানুষ ঘুমায়। এই হলো তাদের ক্ষমতায় মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করণ।

শিক্ষা খাতে প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধ আট বছরেও পারে নাই। মাদকের ছড়াছড়িতে যুবসমাজ দিশেহারা। কর্মসংস্থানের অভাবে যুবকের আত্মহত্যা। সব ব্যর্থ ঘটনায় দায় এড়াতে এক পর্যায়ে তাদের এক কথা ক্রস ফায়ার, বিনা বিচারে হত্যা।

তারা বলে থাকে আওয়ামী, বিএনপি, জাতীয় পার্টির এমপি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী। এর মানে তারা জনগণ ও রাষ্ট্রের কেউ না। আমি জনগণের ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে চাই। একুশ শতকে জনগণের নেতৃত্বে আসতে জনগণের নিকট দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ছাত্রসমাজকে দুর্নীতিমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার চেতনায় শিক্ষা অর্জন করার মূল চেতনা হওয়া উচিত।